মধ্য
পেন্টাগন এই যৌথ সামরিক অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury)। অন্যদিকে, নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু করেছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে ইরানের রাজধানী তেহরান, ইসফাহানসহ বিভিন্ন শহরের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনায় জোরালো বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, প্রথম ধাপের হামলাগুলো তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দপ্তরের কাছাকাছি এলাকায় আঘাত হেনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বার্তায় ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা, নৌবাহিনী ও মিসাইল প্রযুক্তি ধ্বংস করার হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের জনগণকে তাদের নিজেদের ‘সরকারের পতন’ ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই যৌথ হামলাকে নিজেদের সুরক্ষায় ‘আগাম আক্রমণ’ বা প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ইরানের পাল্টা আঘাত ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি
হামলার পরপরই কঠোর প্রত্যাঘাত শুরু করেছে তেহরান। ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুগুলোতে অসংখ্য মিসাইল ও ড্রোন ছুড়েছে তারা। ইসরায়েলি শহরগুলোতে মুহুর্মুহু সাইরেন ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। শুধু ইসরায়েল নয়, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতেও মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান, ইসরায়েল এবং প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের আকাশসীমা বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে। ইসরায়েল জুড়ে সর্বোচ্চ জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে ভূগর্ভস্থ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের হাসপাতালগুলো রোগীদের দ্রুত ভূগর্ভস্থ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, পরাশক্তিগুলোর এই সরাসরি সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে একটি ধ্বংসাত্মক ও সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
মতামত