খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল দখলমুক্ত ও পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে বিভিন্ন খালের পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা অবৈধ বাঁধ, রাস্তা ও নেটপাটা অপসারণ করা হয়েছে।
রোববার দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি নিষ্কাশনের পথ সচল করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
সকালে উপজেলার ১ নম্বর জলমা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আলীনগর থেকে শান্তিনগর পর্যন্ত গজালমারী খালে পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়। পরে একই ইউনিয়নের নিজখামার থেকে সাচিবুনিয়া বাজার পর্যন্ত খালের ভেতর নির্মিত একাধিক আড়াআড়ি বাঁধ কেটে অপসারণ করা হয়। প্রশাসনের তথ্যমতে, খাল দখল করে প্রায় ২০টির বেশি আড়াআড়ি রাস্তা নির্মাণের ফলে ওই এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল।
প্রশাসনের অভিযোগ, এক শ্রেণির প্লট ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি কৃষ্ণনগর মৌজাসহ জলমা ইউনিয়নের বিভিন্ন রেকর্ডভুক্ত খালের ওপর রাস্তা নির্মাণ করে দখল নিয়েছেন। এর ফলে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র হয়েছে।
এদিকে উপজেলার ৪ নম্বর সুরখালী ইউনিয়নের রায়পুর স্লুইসগেট এলাকায় খালের পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করা নেটপাটাসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়। জব্দ করা নেটপাটা ঘটনাস্থলেই আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, এ ধরনের অবৈধ দখল ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার চালানো হয়েছে।
অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান, সহকারী কমিশনার ভূমি শোয়েব শাত-ঈল ইভান, কানুনগো রিয়াজ উদ্দিন, সার্ভেয়ার মো. মাহতাব হোসেন, পেশকার প্রসেনজিৎ দাস, জলমা ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান, ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সুজন বিশ্বাস, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
সহকারী কমিশনার ভূমি শোয়েব শাত-ঈল ইভান বলেন, নিজখামার থেকে সাচিবুনিয়া বাজার পর্যন্ত খালের প্রায় ২০টি অবৈধ বাঁধ অপসারণে পাঁচ থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে। এ কাজ সম্পন্ন হলে জলমা ইউনিয়নের একটি বড় অংশের জলাবদ্ধতা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মতামত