রবিবার ১৩, সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী জার্মানি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০১:০৩ পিএম

1696

বাংলাদেশে সফল গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর দেশটির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে জার্মানি তথা সমগ্র ইউরোপ অত্যন্ত আগ্রহী বলে জানিয়েছেন জার্মানির ফেডারেল ফরেন অফিসের (এফএফও) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি অত্যন্ত কঠিন ও যুগান্তকারী রাজনৈতিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর দেশটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি নতুন সরকার পেয়েছে। জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সাথে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং দেশটিকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে আরও নিবিড়ভাবে জানতে অত্যন্ত আগ্রহী।’

গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকায় অবস্থিত জার্মান দূতাবাসের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ভূ-রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসের এশিয়া অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান এবং এফএফও’র দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান স্টিফেন কোখ গত ৯ থেকে ১১ জুন বাংলাদেশে তিন দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফর করেন। সফরকালে জার্মান উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন তথা নতুন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজের (সুশীল সমাজ) প্রতিনিধি, দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে দফায় দফায় গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের বিশেষ উপস্থিতিতে এই প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোশাররফ হোসেনের সাথে তাঁদের দপ্তরে পৃথক সাক্ষাৎ করেন।

এই কূটনৈতিক সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষই দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশ-ইইউ (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) বহুমুখী অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপারে তাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজার সুবিধা ধরে রাখতে ইইউ-এর সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের ব্যাপারে গভীর আগ্রহের কথা জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বৈশ্বিক রোহিঙ্গা সংকটও বিশেষভাবে স্থান পায়। ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশটির অনন্য ও প্রশংসনীয় ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে জার্মানি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ এই সফরের বিষয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন করে বলেন, জার্মান উচ্চপর্যায়ের এই ধরনের সফর জার্মানি এবং বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার নতুন পথ উন্মুক্ত করবে।

বাংলাদেশ সফরকালে জার্মান এই উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদলটি সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গেও তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করা (ইজ অব ডুইং বিজনেস), দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার আধুনিক সম্প্রসারণ এবং তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশের চামড়া, পাট ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য ইউরোপের বাজারে রপ্তানি বাড়াতে বর্তমান সরকারের নেওয়া নানামুখী সংস্কারমূলক উদ্যোগের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

জার্মান প্রতিনিধিদলের প্রধান ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত ও মসৃণ উত্তরণের আগে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংস্কারের গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে কেবল তৈরি পোশাক খাতের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের (রপ্তানি বাণিজ্যে বৈচিত্র্য আনা) প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

সফরের শেষ অংশে জার্মান কূটনৈতিক কর্মকর্তারা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের আধুনিক পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নমূলক (সবুজ কারখানা) উদ্যোগসমূহ সরাসরি পরিদর্শনের জন্য গাজীপুরের কাশিমপুরে অবস্থিত ডিবিএল গ্রুপের একটি বৃহৎ টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানা সরেজমিন ঘুরে দেখেন এবং কারখানার সামগ্রিক কর্মপরিবেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন।