রবিবার ১৩, সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৭ এএম

জামালপুরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

1714

জামালপুরে পৃথক দুটি চাঞ্চল্যকর মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এর মধ্যে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার লোমহর্ষক ঘটনায় ঘাতক স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড এবং দশম শ্রেণির এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনায় এক ধর্ষককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিজ্ঞ বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম জনাকীর্ণ আদালতে এই দুটি মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম আলাল সেক (৫৩)। সে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামের মো. মজর উদ্দিনের ছেলে। অন্যদিকে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম রাজীব হোসেন (৩৮)। সে একই উপজেলার বাঘারচর গ্রামের জসিজল হকের ছেলে।

রাষ্ট্রপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী (পিপি) ফজলুল হক মামলার নথির বরাত দিয়ে জানান, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামে গত ২০০৮ সালের ২৬ মে দিবাগত রাত হতে ২৭ মে সকালের কোনো এক সময় পাষণ্ড স্বামী আলাল সেক তার স্ত্রী নাইফুল বেগমকে বাপের বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দেওয়ার দাবিতে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করেন। একপর্যায়ে গভীর রাতে স্ত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেন।

এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পিতা আব্দুল খালেক বাদী হয়ে গত ২০০৮ সালের ৫ জুন জামালপুর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও মামলায় মোট ৯ জন সাক্ষীর সুদীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ বুধবার বিজ্ঞ বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার মূল আসামি আলাল সেক জামিনে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই (পলাতক অবস্থায়) আদালত এই ফাঁসির রায় দেন। রায়ে আলাল সেককে ফাঁসির পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। আসামি পলাতক থাকায় ডিফেন্স বা আসামি পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

এদিকে একই আদালতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অন্য এক মামলার রায়ও ঘোষণা করা হয়। ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২০১৫ সালের ৭ জুন গভীর রাতে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাঘারচর গ্রামে ভুক্তভোগী ওই মাদরাসা শিক্ষার্থীর শয়নকক্ষের জানালার লক সুকৌশলে খুলে ভেতরে প্রবেশ করে প্রতিবেশী লম্পট রাজীব হোসেন। একপর্যায়ে ওই অবুঝ শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সে।

ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থীর গোঙানি ও ডাক-চিৎকারে পাশের ঘর থেকে পরিবার ও স্বজনরা দ্রুত ছুটে এসে লম্পট রাজীব হোসেনকে ঘরের ভেতর হাতেনাতে ধরে ফেলেন। তবে সে উপস্থিত সবার সাথে ধস্তাধস্তি করে ঘর থেকে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় চরম নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থী নিজেই বাদী হয়ে গত ২০১৫ সালের ১১ জুন দেওয়ানগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় দীর্ঘ শুনানিতে ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ মামলার একমাত্র আসামি রাজীব হোসেনের সশরীরে উপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করেন বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম। রায়ে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় রাজীবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এই মামলায় আসামি পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান লিটন।