রবিবার ১৩, সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৮ এএম

হিজবুল্লা ইস্যুতে ইসরায়েলকে নিন্দা, সিরিয়ার সহযোগিতা চাইলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০১:১৩ পিএম

1707

লেবাননে সক্রিয় সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাকে দমনের নামে বেসামরিক এলাকা ও আবাসিক ভবনে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) নির্বিচার সামরিক অভিযানের তীব্র ও কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর এই আগ্রাসী অভিযানকে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সদ্য প্রস্তাবিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির পথে এক ‘বড় বাধা’ বলেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে তিনি নিজেও হিজবুল্লাকে সমূলে দমনের পক্ষপাতী, তবে লেবাননের এই স্পর্শকাতর ভূ-রাজনৈতিক সংকটে সামরিক শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের পরিবর্তে প্রতিবেশী রাষ্ট্র সিরিয়াকে অনেক বেশি যোগ্য ও দক্ষ অংশীদার বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্বের শীর্ষ শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে বর্তমানে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অবস্থান করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সম্মেলনের অবসরে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে হিজবুল্লা ইস্যুতে ইসরায়েলের সামরিক কৌশলের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ইসরায়েল অনেক দিন ধরে হিজবুল্লার সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করছে এবং এ যুদ্ধে ইতোমধ্যে বহু সংখ্যক সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। মনে করুন, আপনি সুনির্দিষ্ট কোনো সন্ত্রাসীকে খুঁজছেন; সেজন্য প্রত্যেকবার সাধারণ মানুষের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনগুলোতে তো বোমা হামলার প্রয়োজন নেই। বহু নিরীহ মানুষ সেসব অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বসবাস করে এবং আমি আপনাকে শতভাগ নিশ্চিত করে বলতে পারি যে তারা কেউ হিজবুল্লা নয়।”

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ও সামরিক নীতিনির্ধারকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প আরও বলেন, “হিজবুল্লা ও লেবানন ইস্যুটি ইসরায়েল বর্তমানে যেভাবে সামলাচ্ছে, তাতে আমি মোটেও খুশি নই। এই যুদ্ধ অনেক আগেই শেষ হয়ে যাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তারা (ইসরায়েল) মাঠপর্যায়ে এমন ধীরগতিতে এগোচ্ছে, যেন অনন্ত সময় তাদের সামনে পড়ে আছে। তাছাড়া তাদের এই অবিবেচকের মতো সামরিক অভিযান ইরানের সঙ্গে আমাদের সম্পাদিতব্য চুক্তির ক্ষেত্রে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।”

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত বহুপাক্ষিক সমঝোতা চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরের ঠিক কিছুক্ষণ আগেই লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছিল আইডিএফ। ফক্স নিউজকে ট্রাম্প খোলামেলাভাবে বলেন, চুক্তির ওই ক্রান্তিলগ্নে ইসরায়েলের এমন উসকানিমূলক আচরণের প্রতি খুবই বিরক্তি ও অসন্তোষ বোধ করেছিলেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, “আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে বৈরুতের বুকে যে বিমান হামলা চালানো হয়েছিল, সেটি আমি মোটেও ভালোভাবে নিইনি।”

সাক্ষাৎকারের শেষাংশে ট্রাম্প ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের নতুন ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে হিজবুল্লার প্রভাব ও নেটওয়ার্ক দমন করার কাজটি ইসরায়েলের চেয়ে সিরিয়া অনেক বেশি নিখুঁত ও পেশাদারভাবে করতে পারবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। তিনি বলেন, “আমার বাস্তবসম্মত মতে, ইসরায়েলের এখন উচিত হবে হিজবুল্লা দমনের পুরো বিষয়টি সিরিয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়া। কারণ সত্যি কথা বলতে, সিরীয় প্রশাসন অনেক ভালোভাবে ও মাঠপর্যায়ের কৌশলে এ কাজটি সম্পন্ন করতে পারবে।”