প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
1705
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ দমন, অপরাধী শনাক্তকরণ এবং নাগরিক সেবা কার্যক্রমে বিদায়ী মে মাসে উল্লেখযোগ্য ও প্রশংসনীয় সাফল্য দেখিয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। বাহিনীটির দেশের বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বিত সাইবার অভিযানে সাধারণ মানুষের হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া মোট ৭৯২টি স্মার্ট মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। একই সাথে মোবাইল ব্যাংকিং ‘বিকাশ’ প্রতারণা চক্রের খপ্পরে পড়া ভুক্তভোগীদের ২ লাখ ৬৯ হাজার ৩৩৫ টাকা এবং অপহৃত ও নিখোঁজ হওয়া ৯ জন ভুক্তভোগীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরের দিকে এপিবিএনের সদর দপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ মাসিক পারফরম্যান্স ও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এপিবিএনের বিশেষায়িত সাইবার টিম গত মে মাসে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধসংক্রান্ত একাধিক জটিল অভিযোগের সফল তদন্ত সম্পন্ন করেছে। এর অংশ হিসেবে হ্যাকারদের কবল থেকে সাধারণ নাগরিকদের ৪টি ফেসবুক আইডি, ১টি ইমো আইডি, ২টি ই-মেইল আইডি এবং ১টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হোয়াটসঅ্যাপ আইডি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় পুনরুদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অনলাইনে নারীদের হয়রানি ও সাইবার বুলিংয়ের দুটি স্পর্শকাতর অভিযোগেরও শতভাগ আইনি নিষ্পত্তি করেছে বাহিনীটি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জরুরি সহায়তায় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে ৭৫২টি এবং এপিবিএনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অফিশিয়াল পেজের মাধ্যমে আরও ৩৬৭টি তাৎক্ষণিক পুলিশি ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
এপিবিএন আরও জানায়, মে মাসে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় পরিচালিত মাদকবিরোধী ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতায় মোট ৫১ হাজার ৮৪ পিস অন্যায্য ইয়াবা ট্যাবলেট, ২ দশমিক ৫ কেজি গাঁজা, ৫০ লিটার নামি-দামি বিদেশি মদ, চোরাই পথে আনা ৬১৫ কার্টন সিগারেট, ৫৩টি নিষিদ্ধ ভেপ সিগারেট এবং ১৪ বোতল অবৈধ স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ৯৯ দশমিক ৯ গ্রাম খাটি স্বর্ণও জব্দ করা হয়।
মারণাস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে এপিবিএন জওয়ানরা মে মাসে দুটি ওয়ান শুটারগান, একটি অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল, তিনটি লোহার ম্যাগাজিন এবং ৩৩ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেছে। এই অস্ত্র সংক্রান্ত অপরাধের ঘটনায় সরাসরি জড়িত দুই বিপজ্জনক সন্ত্রাসীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আরও ৬৪১ কেজি ওজনের বিভিন্ন চোরাই মালামাল।
বিজ্ঞপ্তিতে আইনশৃঙ্খলা ও আইনি কঠোরতার বিবরণ দিয়ে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে জড়িত থাকার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৪ লাখ ৫১ হাজার ৭০০ টাকা এবং বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা–সংক্রান্ত বিশেষ অভিযানে আরও ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা নগদ জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএসটিআই-এর কর্মকর্তাদের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত ভেজালবিরোধী অভিযানে বিভিন্ন অসাধু প্রতিষ্ঠান থেকে আদায় করা হয়েছে আরও ১ লাখ টাকা জরিমানা।
চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকি রোধে পরিচালিত অন্য এক বিশেষ অভিযানে সীমান্ত ও বিমানবন্দর এলাকা থেকে ১৯৮টি ভারতীয় দামী শাড়ি ও থ্রি-পিস, ৮০১ কেজি আমদানিকৃত প্রসাধনী (কসমেটিকস), ১৩০ কেজি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, ১১ কেজি জীবনরক্ষাকারী বিদেশি ওষুধ, ১০টি নামি ব্র্যান্ডের হেডফোন, ৩৯টি বিলাসবহুল হাতঘড়ি, নগদ ৮০০ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ৩ লাখ ১৩ হাজার বাংলাদেশি টাকা এবং ৩৪৬ কেজি ওজনের অন্যান্য অবৈধ বাণিজ্যিক পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে।
একই সাথে কক্সবাজার ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সীমান্ত সুরক্ষায় অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ২০টি সন্দেহভাজন যানবাহন আটক করে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট স্থানীয় থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫ কেজি ওজনের অবৈধ সামুদ্রিক কাঁকড়াও উদ্ধার করা হয়েছে।
মাসিক এই সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে এপিবিএন সদর দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সম্পূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক পুলিশি সেবার মাধ্যমে দেশের সাধারণ জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত, নিশ্ছিদ্র, নিরাপদ ও সবচেয়ে কার্যকর জনসেবা নিশ্চিত করতে তাদের এই অলরাউন্ড বিশেষ অভিযান ও কঠোর তদারকি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও দেশব্যাপী অব্যাহত থাকবে।