আন্তর্জাতিক

দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড যুক্তরাজ্যে টিউলিপের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী?

প্রিন্ট
দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড  যুক্তরাজ্যে টিউলিপের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী?

প্রকাশিত : ১ ডিসেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:০৯ আপডেট : ২ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর ২:০৩

ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেয়ার দায়ে যুক্তরাজ্যের ৪৩ বছর বয়সী লেবার এমপি ও সাবেক নগর মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিককে ২ বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেইসাথে, জরিমানা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে আরও ছয় মাস অতিরিক্ত সাজা ভোগ করতে হবে বলেও জানায় আদালত।

এর ফলে, তার ব্রিটিশ রাজনীতিতে যেসব প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে দেশটিতে। আগ্রহের কমতি নেই বাংলাদেশের মানুষেরও। 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায়- টিউলিপ সিদ্দিক, তার মা শেখ রেহানা ও আপন খালা শেখ হাসিনাসহ মোট ১৫ জনকে আসামি করা হয়। পরে তদন্ত শেষে ১০ মার্চ আরও দুইজনকে যুক্ত করে মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। যেখানে টিউলিপকে ২ বছরের জেল ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। 

যদিও এসব অভিযোগ সবসময় দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন টিউলিপ সিদ্দিক। কিন্তু ব্রিটিশ সরকারের দুর্নীতি দমন মন্ত্রী চলতি বছরের শুরুতে এই অভিযোগের কারণে, তাকে সরকারি কোষাগারের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিলেন। এর মানে ব্রিটিশ সরকার বিষয়টিকে এতটাই গুরুত্বের সাথে নিয়েছিল যে, অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে অব্যাহতি দিয়েছিল। কিন্তু এবার আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায়, ঠিক কী ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারেন তিনি, তা নিয়ে আলোচনা চলছে সবার মাঝে। 

ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল  বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের বরাতে বলছে, দুই বছরের এই সাজার ফলে হ্যাম্পস্টেড এবং হাইগেটের এই এমপিকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের জন্য পুনরায় দাবি জানানো হতে পারে। 

যদিও গত সপ্তাহে চেরি ব্লেয়ার কেসির নেতৃত্বে বিশিষ্ট ব্রিটিশ আইনজীবী এবং প্রাক্তন মন্ত্রীরা একটি যৌথ চিঠির মাধ্যমে জানান, টিউলিপের বিরুদ্ধে বিচার \'অন্যায্য\'। যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামের কাছে পাঠানো চিঠিটিতে আরও বলা হয়, তার অনুপস্থিতিতে বিচার করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ন্যায্যতার মানদণ্ডে উত্তরণের সম্ভাবনা অনেক কম।

এর আগে, টিউলিপ সিদ্দিককে ট্রেজারি বিভাগের অর্থনৈতিক সচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়, যখন তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে ৪ বিলিয়ন পাউন্ড ঘুষের মামলায় তদন্ত চলছিল। এতে বাংলাদেশে রাশিয়া নির্মিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চুক্তি থেকে ৪ বিলিয়ন পাউন্ড আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছিল তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।

আরেকটি অভিযোগ ছিল, তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন- তার বাবা-মা তাকে লন্ডনের কিংস ক্রসে একটি ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছিলেন। যদিও বাস্তবে এটি তার খালা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক মিত্র তাকে উপহার দিয়েছিল।

মিনিস্ট্রিয়াল স্ট্যান্ডার্ডস-এর স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সংস্থা স্যার লরি ম্যাগনাসের তদন্তে বলা হয়েছে, টিউলিপ মন্ত্রী হিসেবে কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি। তবে তার \'বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠ পরিবারের যোগাযোগ\' থেকে \'খ্যাতির ঝুঁকি\' সম্পর্কে আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল।

বর্তমানে বাংলাদেশের সাথে ব্রিটেনের কোনও প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তাই এই সাজা আদৌ কার্যকর করা যাবে কি না, এ নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন অনেক বিশ্লেষক।

উল্লেখ্য, গত মাসে শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগের পর থেকে তিনি ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন।