সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী দালাল চক্র সক্রিয়। গত ৫ আগস্টের পর মুক্তি নামের এক স্টাফ এখানে বদলি হয়ে আসার পর তার ছত্রছায়ায় নতুন করে সিন্ডিকেটটি বেপরোয়া হয়ে ওঠে। দালালরা সাধারণ ও দরিদ্র রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বাইরের ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ কিনতে বাধ্য করে।
এসব অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে নারায়ণগঞ্জ টাইমস-এর হাসপাতাল প্রতিনিধি মেহেদী হাসানকে ঘিরে ধরে অবরুদ্ধ করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে দালালরা। স্থানীয় রাজীব নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে খবর পেয়ে অন্য সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করতে গেলে দালাল চক্র সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরও তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন।
ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনরাও দালালদের এই দৌরাত্ম্যের কথা স্বীকার করেছেন। তারা জানান, হাসপাতালে প্রবেশের পর থেকেই দালালরা নানা প্রলোভন দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়। অনেক সময় আসল স্টাফ আর দালালের মধ্যে পার্থক্য বোঝাও কঠিন হয়ে পড়ে।
সাংবাদিকদের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা। নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাউদ মাসুদ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি বিল্লাল হোসেন রবিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দালাল চক্রের সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনা হলে সাংবাদিকরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। সাংবাদিকদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত