নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জোরপূর্বকভাবে বাড়িঘর ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার ও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ লুটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিউলী বেগম বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪ জনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি দক্ষিণ পাড়া এলাকার মালেক মেম্বারের পুল সংলগ্ন এলাকায় এই ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে আসামিরা বেআইনিভাবে জনতাবদ্ধ হয়ে ধারালো ছোরা, চাপাতি, রামদা ও লোহার পাইপসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করলে নিষেধ করা হয়। এরপরই আসামিরা বাড়িতে ঢুকে ঘর ও মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় তারা দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ও গরু বিক্রির নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ভাঙচুর ও লুটপাটে বাধা দিলে আসামিরা ভুক্তভোগীসহ পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। ভুক্তভোগীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা তাদের খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
মামলায় অভিযুক্তদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলায় অংশগ্রহণ করা অভিযুক্তরা সকলেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মামলায় নাম থাকা ২ নম্বর আসামি সাইফুল ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের খালাতো ভাই বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি দক্ষিণ পাড়া এলাকার হাবিবুর রহমান (৫৫), সাইফুল ইসলাম (২৬), মতিউর রহমান (৪০), আনিস (৩৮), আলী হোসেন (৩০), ফাহিম (২৪), হাশেম মিয়া (৪৫), আলমাছ (৬০), সেকেন্দার আলী (৩২), হাসিব (২৩) ও সজিব হোসেন (২৪)। এদের মধ্যে কয়েকজন একই এলাকার মৃত এ কে এম নূরুল হক ও মৃত ইউনুসের ছেলে।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান, ভাঙচুর ও লুটের ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মতামত