সারাদেশ

সিদ্ধিরগঞ্জে রমরমা অবৈধ গ্যাস সংযোগ বাণিজ্য: সক্রিয় দালাল চক্র বাড়ছে বিস্ফোরণের ঝুঁকি

প্রিন্ট
সিদ্ধিরগঞ্জে রমরমা অবৈধ গ্যাস সংযোগ বাণিজ্য: সক্রিয় দালাল চক্র বাড়ছে বিস্ফোরণের ঝুঁকি

প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর ২০২৫, রাত ১১:৪২

সরকার ২০১৬ সালে আবাসিক খাতে তিতাস গ্যাসের নতুন সংযোগ বন্ধ ঘোষণা করলেও নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিস্তার দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। একটি শক্তিশালী দালাল চক্র ও অসাধু ঠিকাদারদের যোগসাজশে এই সংযোগ বাণিজ্য রমরমা আকার ধারণ করেছে।

হাউজিং, ভূমি পল্লী, হিরাঝিল, পাইনাদী নতুন মহল্লা, সিআইখোলা, রনি সিটি, মক্কিনগর, আদমজী, কদমতলীসহ আশপাশের এলাকায় বর্তমানে হাজার হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ ওপেন সিক্রেট।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈধ সংযোগের কাজ বন্ধ থাকলেও কিছু অসাধু ঠিকাদার ও দালাল চক্র গোপনে এই অবৈধ সংযোগ দিয়ে প্রতি মাসে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও নিম্নমানের সংযোগের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিতাস গ্যাসের কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মচারী ও ঠিকাদার এই দালাল সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সংযোগ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। বহু এলাকায় প্রকাশ্যে পাইপ বসিয়ে সংযোগ দেওয়া হলেও স্থানীয় প্রশাসন বা তিতাস কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাড়ির মালিক জানান, বৈধ সংযোগ না থাকায় তারা ভাড়াটিয়া পাচ্ছেন না। এ কারণে বাধ্য হয়েই তারা দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ নিচ্ছেন। দালালরা এই অবৈধ সংযোগের বিপরীতে সরকারের নির্ধারিত ফির সমপরিমাণ টাকা আদায় করছে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, দালাল চক্রকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তারা তিতাস অফিসের মাধ্যমে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং জরিমানা করার ভয় দেখায়। ফলে হয়রানি থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে তারা দালালদের মাসোয়ারা (মাসিক চাঁদা) দিয়ে যাচ্ছেন।

একজন বাড়ির মালিক বলেন, আমরা টাকা খরচ করে বাড়ি তৈরি করেছি, কিন্তু তিতাসের বৈধ সংযোগ ছাড়া ভাড়াটিয়া পাওয়া যায় না। সরকার যদি সংযোগগুলো বৈধ করে দিত, তাহলে সরকার রাজস্ব পেত এবং আমরাও এই দালালদের হয়রানি থেকে মুক্তি পেতাম।

এলাকার সচেতন মহল অবিলম্বে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা এই অবৈধ কারবারে জড়িত তিতাস গ্যাসের দায়ী কর্মকর্তা ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া, নিরাপদ ও বৈধ উপায়ে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস নারায়ণগঞ্জ শাখার ম্যানেজার মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।