দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে আবারও অস্থিরতা। ব্যবসায়ীরা পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৯ টাকা বাড়িয়ে দিলেও, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পর তা কিছুটা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হবে নতুন দাম, ৯ টাকার জায়গায় ৬ টাকা বৃদ্ধিভোক্তা পর্যায়ে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ীরা প্রথমে কোনো ঘোষণা দেননি। সম্প্রতি বাজারে পাঁচ লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছিল ৯৬৫ টাকায়, যেখানে আগের দাম ছিল ৯২২ টাকা অর্থাৎ এক লাফে বৃদ্ধি ছিল ৩৩ টাকা বা লিটারে প্রায় ৯ টাকা। এছাড়া, বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৮৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছিল ১৯৮ টাকা। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পর দাম কিছুটা কমিয়ে চূড়ান্ত দর কার্যকর করা হলো। তেলের পূর্বের দাম নতুন নির্ধারিত দামবৃদ্ধির পরিমাণ বোতলজাত সয়াবিন ১ লিটার, ১৮৯ টাকা, ১৯৫ টাকা ৬ টাকা খোলা সয়াবিন ১ লিটার, ১৭৬ টাকা ৭ টাকা পাম তেল ১ লিটার ১৬৬ টাকা, নতুন দর বোতলজাত সয়াবিন ৫ লিটার, ৯২২ টাকা, ৯৬৫ টাকা ৩৩ টাকা, প্রতিবেদনে উল্লিখিত পুরনো দামের ভিত্তিতে সরকারের কঠোর অবস্থান পূর্ব ঘোষণা ছাড়া দাম বাড়ানোয় সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ালেও সরকার পূর্বেই জানত না। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে ব্যবসায়ীরা শাস্তি যোগ্য কোনো অপরাধ করলে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপদেষ্টা জানান, যদি দাম বাড়ানোর পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ থাকে, তবে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। তবে তিনি আশ্বাস দেন, সরকারের নিয়ন্ত্রণ আছে, তা পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে আলোচনার পরই তেলের দাম লিটারে ৩ টাকা কমিয়ে ১৯৮ টাকা থেকে ১৯৫ টাকা কার্যকর করা হলো, যা ইঙ্গিত দেয় যে সরকারের নিয়ন্ত্রণের ফলেই দামের রাশ টানা সম্ভব হয়েছে।
মতামত