সারাদেশ

মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে পঞ্চগড় দুর্ভোগে নিম্ন আয়ের মানুষ

প্রিন্ট
মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে পঞ্চগড় দুর্ভোগে নিম্ন আয়ের মানুষ

প্রকাশিত : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ৬:৫১

পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় টানা দুই দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এতে জেলার জনজীবনে শীতের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শুক্রবার ভোরে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৮ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার।স

আবহাওয়া অফিস জানায়, সকালের দিকে কুয়াশার উপস্থিতি না থাকলেও সূর্যের তাপ খুব একটা অনুভূত হয়নি। হালকা বাতাসের সঙ্গে শীতল আবহাওয়া থাকায় সকাল ও ভোরে শীতের তীব্রতা বেশি ছিল।

শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। জীবিকার তাগিদে তীব্র ঠান্ডা উপেক্ষা করেই মাঠে খেতে কিংবা রাস্তাঘাটে বের হতে হচ্ছে দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষদের। শীত থেকে বাঁচতে অনেককে খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। তবে এভাবে আগুন জ্বালানোর কারণে চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ জন দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরু থেকেই তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমছে। গত বুধবার সকালে এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই দিন বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৭৭ শতাংশ এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ২৮ দশমিক ২ ডিগ্রিতে। এর আগের দিন মঙ্গলবার সকালে একই ধরনের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সে সময় আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশ এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শীত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান জানান, শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এখন প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে পাওয়া ৩০ লাখ টাকা দিয়ে ইতোমধ্যে ৮ হাজার ৬৪০টি কম্বল ক্রয় করে জেলার পাঁচটি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৬৫ হাজার কম্বলের চাহিদা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।