গত ২০ মে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামজিদ হোসেনের আদালতে মামলাটি (নং- ৪৮১/২৬) দায়ের করেন ভুক্তভোগী মো. রায়হান শরীফের আত্মীয় মো. সায়হান। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন—সিদ্ধিরগঞ্জের এসও রোড মন্ডলপাড়া এলাকার মো. সাইফুল মন্ডল ও তার বোন বিথী আক্তার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বন্ধুত্বের সুবাদে সাইফুল মন্ডল ভুক্তভোগী রায়হানকে পাপুয়া নিউগিনিতে আল-রাফি ট্রেডিং লিমিটেডে লোভনীয় চাকরি ও ব্যবসার প্রস্তাব দেন। ২০২৪ সালের মে মাসে প্রথম দফায় ১৪ লাখ টাকা নিয়ে রায়হানকে বিদেশে নেওয়া হয়। সেখানে ১৫ মাস কাজ করলেও তার বেতনের প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন সাইফুল। একই সঙ্গে রায়হানের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে তাকে জিম্মি করা হয়। পরবর্তীতে ব্যবসার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে দেশে থাকা পরিবারের কাছ থেকে আরও অর্থ হাতিয়ে নেয় চক্রটি। বিদেশে পাঠানো, বেতন ও ব্যবসার নামে প্রতারণার মাধ্যমে মোট ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে, রায়হানের পরিবার অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা তা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সবশেষ গত ২ মে আসামিপক্ষের লোকজন বাদীর বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয়, বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে রায়হানকে আর জীবিত পাওয়া যাবে না।
বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় থাকা জিম্মি রায়হানকে দ্রুত উদ্ধার এবং অভিযুক্ত মানব পাচার চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
মতামত