স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালিয়াডাঙ্গীর রত্নাই, আমজানখোর ও ধনতলা এবং রানীশংকৈলের ধর্মগড় ও জগদ্দল সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন গভীর রাতে ভারতীয় গরু আনা হচ্ছে। এরপর বিকেল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত পীরগঞ্জ ও বালিয়াডাঙ্গী সড়ক হয়ে ট্রাকে করে এসব গরু দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে সীমান্ত দিয়ে গরুর পাল ঢুকছে এবং লাহিড়ী হাটসহ বিভিন্ন বাজারে তা বিক্রিও হচ্ছে। গরুর শারীরিক গঠন দেখেই এগুলো যে ভারতীয়, তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে।
ভারতীয় গরুর এই অবাধ অনুপ্রবেশে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন স্থানীয় খামারিরা। সদর উপজেলার খামারি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সারা বছর কষ্ট করে গরু পালন করেছি। এখন ভারতীয় গরু বাজারে ঢুকলে দেশীয় গরুর দাম পড়ে যাবে এবং ছোট-মাঝারি খামারিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলামও আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, এ বছর কোরবানির পশুর বাজার স্থিতিশীল থাকলেও ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ এই বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
অবৈধভাবে গরু প্রবেশের কারণে দেশীয় খামারিদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইজাহার আহমেদ খান।
বিষয়টি নিয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়কের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু প্রবেশের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিজিবিও জানিয়েছিল গরু পারাপার হচ্ছে না। তবে ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। আমি দ্রুতই সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করব এবং বিজিবিকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেব।
মতামত