বিনোদন

খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপনে আর নয় ভোক্তা প্রতারণার জেরে ডা. এজাজের স্থির সিদ্ধান্ত

প্রিন্ট
খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপনে আর নয় ভোক্তা প্রতারণার জেরে ডা. এজাজের স্থির সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর ২০২৫, দুপুর ১:৫৫

দীর্ঘদিন ধরে নাটক, সিনেমা ও বিজ্ঞাপনে অভিনয় করে দর্শকদের মাঝে এক বিশ্বস্ত ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ডা. এজাজুল ইসলাম। তবে সম্প্রতি খাঁটি-ঘি নামক একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়ে তিনি কঠিন সমালোচনার মুখে পড়েছেন এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরেও তাঁকে হাজিরা দিতে হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভোক্তা অভিযোগ করেছেন যে, ডা. এজাজের প্রতি বিশ্বাস রেখেই তাঁরা ওই প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য কিনেছিলেন। কিন্তু প্রাপ্ত পণ্যটি ছিল নিম্নমানের এবং প্রতারণাপূর্ণ। ঢাকার এক ক্রেতা বলেন, অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখে সাধারণত বিশ্বাস করি না। কিন্তু এজাজ ভাইকে দেখে ভরসা করেছিলাম। পরে বুঝলাম প্রতারিত হয়েছি। সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে একই ধরনের অন্যান্য অভিযোগ।

পরিস্থিতি নজরে আসার পর ডা. এজাজ গভীরভাবে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সম্প্রতি ভোক্তা অধিদপ্তর তাঁকে ডেকেছিল। অধিদপ্তর থেকে তাঁকে জানানো হয় যে, তাঁকে দেখিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানটি ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

ডা. এজাজ অধিদপ্তরে বলেন, আমি তাদের জানিয়েছি, বিজ্ঞাপন করার সময় আমাকে বিএসটিআইয়ের ছাড়পত্র দেখানো হয়েছিল, তাই আমি বিশ্বাস করেছিলাম যে পণ্যটি মানসম্মত। তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানের একজন পরিচালক পণ্যের মোড়কে বিএসটিআইয়ের লোগো দেখিয়েছিলেন।

অভিনেতা এজাজুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি ভোক্তা অধিদপ্তরের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, যদি প্রতিষ্ঠানটি সত্যিই ভেজাল পণ্য দিয়ে থাকে, তবে যেন দ্রুত তদন্ত করে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ দায়েরের পরও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপনটি এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে। বিষয়টি বন্ধের জন্য তিনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো ফল পাননি বলে জানান।

এই অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ডা. এজাজ তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনার পর আমি স্থির সিদ্ধান্ত নিয়েছি জীবনে আর কখনই খাদ্যপণ্যের বিজ্ঞাপন করব না। মানুষের ভরসাকে কেউ যেন আর কোনোদিন অন্যায়ভাবে ব্যবহার করতে না পারে। এই সিদ্ধান্ত তাঁর অনুরাগীদের মনে স্বস্তি এনেছে এবং একইসঙ্গে শিল্পীদের পণ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হওয়ার বার্তা দিয়েছে।