অর্থনীতি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর কার্যক্রম শুরু

প্রিন্ট
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-এর কার্যক্রম শুরু

প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর ২০২৫, সন্ধ্যা ৭:২৭

দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সোমবার (১ ডিসেম্বর) চূড়ান্ত অনুমোদন ও লাইসেন্স ইস্যু হওয়ার পর মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) থেকে নতুন এই প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু করেছে।

মতিঝিলে সেনা কল্যাণ ভবনে নবগঠিত ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ শুরু হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার একটি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এই উদ্যোগকে জাতির জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, দ্রুততম সময়ে ব্যাংককে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর জন্য একটি বিশেষ কারিগরি টিম ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

ড. আইয়ুব মিয়া বলেন, ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য হলো আমানতকারীদের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে জাতির কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চেয়ারম্যান ড. আইয়ুব মিয়া। সাক্ষাৎ শেষে চেয়ারম্যান জানান, বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংকের ভিশন-মিশন, আইন-কানুন ও সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা।

তিনি আরও জানান, সামনে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা এবং আইনসম্মতভাবে পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করার কাজ আরও দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হবে।

এর আগে গত রোববার গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ বোর্ড সভায় পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংক— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স হস্তান্তর করে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে বিশাল অঙ্কের ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার জোগান দেবে ২০ হাজার কোটি টাকা, এবং আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে আসবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন রাখা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এই পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত নতুন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানটি দেশজুড়ে ইসলামী ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহ থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হবে। উচ্চ অঙ্কের আমানত ফেরতের জন্য একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।