আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবদুল জব্বার মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) ফতুল্লার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও প্রধানদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত এসব সভায় তিনি শিক্ষা খাতে বিরাজমান দুর্নীতি, মাদকের ভয়াবহতা এবং নির্বাচনকালীন অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মঙ্গলবার সকালে ৭৭ নং রামারবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রওজাতুস সালিহীন ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা, কুতুবাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই মতবিনিময় সভাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময়কালে মাওলানা জব্বার শিক্ষা খাতে বিদ্যমান দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে যে দুর্নীতি ও ঘুষ চালু আছে, তা অত্যন্ত অনভিপ্রেত। এটি শিক্ষার মানকে মারাত্মকভাবে নষ্ট করছে। তিনি শিক্ষকদের নৈতিক শিক্ষা জোরদারে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ঘিরে সমাজে প্রচলিত বিভ্রান্তিকর তথ্যের জবাবে জামায়াত নেতা মাওলানা জব্বার বলেন, সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না। অনেকে বলে শিবির রগ কাটে এ ধরনের বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই, কোনো প্রমাণ নেই। তিনি ফতুল্লা এলাকায় মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মাদক অনেক জায়গায় সয়লাব। কিন্তু আপনারা নৈতিকতা ও আদর্শ নিয়ে কাজ করছেন, এটি প্রশংসনীয়।
অতীতের নির্বাচনকে ঘিরে হওয়া অনিয়মের কথা তুলে ধরে জামায়াতের এই প্রার্থী শিক্ষকদের প্রতি সুষ্ঠু নির্বাচনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভয়, ভীতি এবং টাকার বিনিময়ে অতীতে ভোট কেনা হয়েছে। এবার আপনারা ন্যায় ও সততার সাথে পরিষ্কার ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করি।
তিনি ফতুল্লার স্থানীয় সমস্যা সমাধানে গুরুত্বারোপ করে বলেন, এলাকায় মাদক, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পয়ঃনিষ্কাশন এবং বেকারত্ব সমস্যা প্রকট। এসব সমাধানে জনগণের পাশে থাকতে চাই। মাদরাসার ছাত্রদের আল্লাহভীতি অর্জনের বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দিতে শিক্ষকদের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান।
মতবিনিময় সভায় শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে তাঁদের ওপর আসা চাপ ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। রামারবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাসরীন সুলতানা বলেন, বিগত দিনে আমাদের ওপর নানা কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাথার ওপর ছবি টানানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে মূর্তি স্থাপনের বিষয়গুলোও আমাদের জন্য অস্বস্তিকর ছিল।
এছাড়া রওজাতুস সালিহীন ফাজিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল আব্দুস শুকুর আলী সহ উপস্থিত শিক্ষকরা স্থানীয় শিক্ষা, সমাজ ও নৈতিকতা নিয়ে আলোচনা করেন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন, ফতুল্লা থানা সেক্রেটারি হাফেজ এনামুল হক সহ জামায়াতের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মতামত