দীর্ঘ প্রায় এক বছর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর কর্মস্থল থেকে বিদায় নিলেন ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম। এই বদলি ঘিরে এলাকার সাধারণ মানুষ, বিশিষ্টজন ও রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে তার কাজের ভূয়সী প্রশংসা উঠে এসেছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে যখন পুলিশি কার্যক্রম নিয়ে নানা সমালোচনা চলছে, তখন সিদ্ধিরগঞ্জে ওসি শাহীনুর আলম তৈরি করেছেন এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। স্থানীয়দের মতে, তাঁর কঠোরতা ও নিরলস পেশাদারিত্বের কারণে এই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে উন্নত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পরেও যখন জেলার অন্যান্য থানায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষ ভীত ও শঙ্কিত ছিল, তখন সিদ্ধিরগঞ্জের মানুষ ওসি শাহীনুর আলমের কারণে নিশ্চিন্ত এবং সাহসী বোধ করেছেন। অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানোর ফলে বহু মাদক স্পট বন্ধ হয়েছে এবং এলাকায় মাদকসেবী ও এর প্রাদুর্ভাব উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
ডেভিল হ্যান্টে'র মতো অভিযানের মাধ্যমে চাঁদাবাজ, দখলবাজ, কিশোর গ্যাং এবং দেশবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয়রা ৯৯৯-এ বা সরাসরি তাঁকে ফোন করা মাত্রই দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতেন। এক ভুক্তভোগী নারী জানান, তাঁর দ্রুত পদক্ষেপে তিনি একটি বড় সমস্যা থেকে মুক্তি পান। এই সকল পদক্ষেপের কারণে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ক্ষোভ ও প্রতিহিংসার মুখে পড়লেও তিনি তাঁর দায়িত্ব পালনে অবিচল ছিলেন।
বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি শাহীনুর আলম বলেন, আমরা রাষ্ট্রের কর্মচারী, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে আমাকে যখন, যেখানে দায়িত্ব পালনের জন্য যেতে হবে আমি যেতে বাধ্য। আমাদের প্রধান কাজই হলো নির্দলীয় ও নিরপেক্ষভাবে দেশ ও দেশের জনগণকে সেবা প্রদান করা। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক নেতা বা কর্তাব্যক্তিদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাদারিত্ব বজায় রাখাই তাঁর মূল লক্ষ্য।
সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, নতুন যিনি দায়িত্ব নেবেন, তিনি যেন ওসি শাহীনুর আলমের জনসেবামূলক কাজের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।
মতামত