শীতের আমেজ শুরু হতেই ঠাকুরগাঁওয়ের নারগুন এলাকার খেজুর বাগানগুলোতে গুড় তৈরির ধুম পড়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, অধিক মুনাফার আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাঁটি রসের পরিবর্তে চিনি মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করছেন। এ নিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, খেজুর রসের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ চিনি মিশিয়ে চুলায় জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করা হচ্ছে। এতে গুড়ের স্বাভাবিক স্বাদ ও সুঘ্রাণ নষ্ট হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনি মেশানো এই ভেজাল গুড় নিয়মিত সেবন করলে ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।
ভেজাল গুড়ের সয়লাবের কারণে বাজারে খাঁটি খেজুর গুড় চেনা যেমন কঠিন হয়ে পড়েছে, তেমনি ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত গুড় উৎপাদনকারীরা। কৃষকদের দাবি, অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। তারা অবিলম্বে বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
এদিকে, নারগুন খেজুর বাগান এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে একটি মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড। অভিযোগ রয়েছে, এই স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ নানাভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। বাগানের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও জানান অনেকে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুড়ে চিনি মেশানোর বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। খাদ্যে ভেজাল রোধে এবং অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে দ্রুত নজরদারি জোরদার করা হবে। প্রয়োজনে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত