দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি প্রথমবারের মতো রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। ২০০৭ সালের এক-এগারো পরবর্তী সময়ে এই কার্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও এর আগে সেখানে যাওয়ার সুযোগ পাননি তিনি।
উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সাংগঠনিক বৈঠক রোববার বেলা ১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমান গুলশানের বাসভবন থেকে রাজনৈতিক কার্যালয়ে পৌঁছালে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খানসহ শীর্ষ নেতারা তাঁকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। পরে তিনি কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় তাঁর নির্ধারিত কক্ষে দলের নীতিনির্ধারক ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সমসাময়িক রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
নয়াপল্টনেও প্রস্তুত বিশেষ কক্ষ শুধু গুলশান নয়, রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও তারেক রহমানের জন্য আলাদা কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কক্ষের পাশেই তাঁর জন্য এই চেম্বারটি তৈরি করা হয়েছে, যেখান থেকে তিনি নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন।
প্রবাস জীবনের অবসান গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সপরিবারে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ২০০৮ সালে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার পর দীর্ঘ ১৭ বছর পর তিনি দেশের মাটিতে পা রাখলেন। দেশে ফেরার পর তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া ইতিমধ্যে তিনি ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের সরাসরি মাঠে নামা এবং কার্যালয়ে বসে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করা বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
মতামত