সারাদেশ

রাজনীতির একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি: না ফেরার দেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী

প্রিন্ট
রাজনীতির একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি: না ফেরার দেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, সকাল ৯:০১

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী চরিত্র, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে নানা শারীরিক জটিলতা ও বার্ধক্যের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানলেন ‘আপসহীন’খ্যাত এই নেত্রী। 

তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। আজ মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর এই প্রস্থানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের যবনিকা পাত হলো।

​দলীয় সূত্র ও চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে তিনি মারা যান। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

​ভোরের আলো ফোটার আগেই বিদায় নিলেন দেশনেত্রী। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাঁকে ফোন করে দুঃসংবাদটি দেন। বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে তিনি জানান, ‘আম্মা আর নেই।’ জানা গেছে, মৃত্যুর সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা হাসপাতালেই উপস্থিত ছিলেন। প্রিয় নেত্রীর মৃত্যুর খবরে হাসপাতালের সামনে ভিড় করতে শুরু করেছেন দলের শোকার্ত নেতাকর্মীরা।

​খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গত কয়েকমাস ধরেই বেশ নাজুক ছিল। উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তাঁকে লন্ডনে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসার পর তাঁর স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতিও পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু বার্ধক্যজনিত জটিলতা এবং দীর্ঘদিনের জমে থাকা নানা রোগে তাঁর শরীর ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শরীর ও মনের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দীর্ঘ ধকল তিনি আর সইতে পারছিলেন না।

​সর্বশেষ গত ২৩ নভেম্বর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন তিনি। কিন্তু এবার আর তিনি চিকিৎসায় সাড়া দেননি। জীবনের মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে।

​খালেদা জিয়ার জানাজার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আগামীকাল বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জানাজা অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর তাঁকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় মর্যাদাও প্রদান করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

​তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পার করেছেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা তাঁকে ‘আপসহীন’ নেত্রীর উপাধি এনে দিয়েছিল। দেশের মানুষের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘দেশনেত্রী’ হিসেবে। প্রিয় দেশবাসী ও নেতাকর্মীদের কাঁদিয়ে আজ তিনি চিরবিদায় নিলেন।