সারাদেশ

সুবিধাবাদী রাজনীতি ও শাহ আলমের স্ট্যান্ডবাজি: ফতুল্লায় তৃণমূলে ক্ষোভ

প্রিন্ট
সুবিধাবাদী রাজনীতি ও শাহ আলমের স্ট্যান্ডবাজি: ফতুল্লায় তৃণমূলে ক্ষোভ

প্রকাশিত : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, রাত ১১:০২

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনের সাবেক বিএনপি নেতা ও শিল্পপতি মোহাম্মদ শাহ আলমের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিকূল সময়ে দল ত্যাগ এবং অনুকূল পরিবেশে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টাকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি ও সুবিধাবাদ হিসেবে দেখছেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে স্বল্প ব্যবধানে পরাজয়ের পর শাহ আলম ২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন না পেয়ে অভিমান ও মামলার ভয়ে ২০১৯ সালে বিএনপির সকল পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সে সময় তিনি রাজনীতি ছেড়ে সমাজসেবায় মনোনিবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের রোষানল থেকে বাঁচতে এবং নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষায় তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি।

৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর শাহ আলম আবারও নিজেকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পরিচয় দিয়ে মাঠে নামেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশকে নিয়ে শোডাউন এবং লন্ডনে গিয়ে দলীয় হাইকমান্ডের সাক্ষাৎ পাওয়ার চেষ্টাও করেন তিনি। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, লন্ডনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ পাননি।

সম্প্রতি এক জনসভায় তিনি নিজেকে ২০১৮ সালের মনোনীত প্রার্থী দাবি করলেও আদতে সে সময় জোটের স্বার্থে মনির হোসেন কাসেমীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। দল মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি তাকে বহিষ্কার করে। বহিষ্কার আদেশে তাকে নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তার বর্তমান সদস্য পদের দাবিকে ভুয়া প্রমাণ করে।

শাহ আলমের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী সময়ে তিনি তৎকালীন কিংস পার্টি খ্যাত কল্যাণ পার্টির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। পরে নাটকীয়ভাবে ২০০৮ সালে বিএনপির মনোনয়ন বাগিয়ে নেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, শাহ আলম বরাবরই প্রতিকূল সময়ে গা-ঢাকা দেন এবং সুসময়ে দুধের মাছির মতো ফিরে আসতে চান। তার এমন সুবিধাবাদী রাজনীতি দলের আদর্শিক কর্মীদের মাঝে চরম অসন্তোষ তৈরি করেছে।