সারাদেশ

শেরপুরে জামায়াত নেতার মৃত্যুতে উত্তেজনা: বিজিবি ও সেনা মোতায়েন, ওসি-ইউএনও প্রত্যাহার

প্রিন্ট
শেরপুরে জামায়াত নেতার মৃত্যুতে উত্তেজনা: বিজিবি ও সেনা মোতায়েন, ওসি-ইউএনও প্রত্যাহার

প্রকাশিত : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, রাত ৯:৫৮

শেরপুর ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামী নেতা মাওলানা রেজাউল করিম (৪২) নিহতের ঘটনায় শেরপুরে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী এলাকায় চার প্লাটুন বিজিবি ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সকালে ঝিনাইগাতীর গোপালখিলা গ্রামে নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস। সকাল ১১টার দিকে নিহতের বাড়িতে সান্ত্বনা জানাতে আসেন জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান। এদিকে, মাওলানা রেজাউল করিমের প্রথম জানাজা শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মী অংশ নেন। রাতেই নিজ গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার জেরে প্রশাসনিক রদবদল করা হয়েছে। দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছে। শেরপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁইয়া জানান, এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা না হলেও তদন্ত চলছে। অন্যদিকে, জেলা জামায়াতের আমির জানিয়েছেন, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দ্রুতই হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। বর্তমানে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ঝিনাইগাতী বাজারসহ আশপাশের এলাকায় থমথমে নীরবতা বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।