মেঘনা টোল প্লাজা সূত্রে জানা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লাসহ সাতটি জেলায় যানবাহন চলাচল করে মহাসড়ক দিয়ে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন মহাসড়ক দিয়ে ২২ হাজার যানবাহন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দিকে আসা-যাওয়া করে। সে হিসাবে প্রতি মিনিটে প্রায় ৪০-৫০টি যানবাহন চলাচল করে এ মহাসড়কে।
নারায়ণগঞ্জ সওজ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ১৯৭৮ সালে নির্মিত হয় লাঙ্গলবন্দ সেতু। প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে সেতুটি অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সওজ বিভাগ জোড়াতালি দিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য উপযোগী করে রেখেছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ঈগল পরিবহনের চালক রুস্তম আলী জানান, বিভিন্ন সময়ে এ সেতুতে যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে। সেতুটি বেশ পুরনো। সওজ বিভাগ গাড়ি চলাচল সচল রাখার জন্য মেরামত করলেও বৃষ্টি হলেই পিচ উঠে যাচ্ছে। গর্তের কারণে সেতুতে যানবাহন চলাচল করে ধীরগতিতে। এতে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
ট্রাকচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, লাঙ্গলবন্দ সেতুর কারণে আমাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত বিকল্প একটি সেতু নির্মাণ করা দরকার।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাবুর রহমান জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে খানাখন্দ ও জরাজীর্ণ লাঙ্গলবন্দ সেতুর কারণে প্রায় সময় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। মদনপুর-গাজীপুরব বাইপাস সড়ক ভাঙাচোরা হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ির চাপ বাড়ছে। স্বল্প জনবল দিয়ে মহাসড়ক সচল রাখতে হিমশিম খেতে হয় আমাদের।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সোনারগাঁ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মামুন জানান, দেশের লাইফ লাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সচল রাখতে সেতুটি মেরামত করা প্রয়োজন। অথচ সেখানে সওজ বিভাগের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। সেতুটি মেরামতের পাশাপাশি নতুন সেতু নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে লাঙ্গলবন্দ সেতু সংস্কার করা হবে। এছাড়া স্থায়ী সমাধানের জন্য পাশে আরো একটি নতুন সেতুর নকশা প্রণয়ন চূড়ান্ত হয়েছে। মহাসড়ক সচল রাখতে সংস্কারকাজ চলমান রাখা হয়েছে।
মতামত