ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় বেশিরভাগ সবজির দাম বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি, তবে মাছ ও মুরগির চাহিদা বেশি থাকায় দাম কিছুটা বেশি রয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) শহরের প্রধান কাঁচামালের বাজার দিগুবাবুরবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আলু, বেগুন, টমেটো, করলা, কাঁচা মরিচসহ বেশিরভাগ সবজি ৪০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। নতুন সবজি বাজারে আসায় কিছু পণ্যের দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে বলেও জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
অন্যদিকে মাছের বাজারে দাম তুলনামূলক বেশি। মাঝারি আকারের রুই মাছ কেজি প্রতি প্রায় ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা এবং পাঙাশ প্রায় ২২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। বিক্রেতাদের মতে, চাহিদা বাড়া এবং কিছু এলাকায় সরবরাহ কম থাকায় মাছের দাম চড়া রয়েছে।
মুরগির বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি প্রায় ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি প্রায় ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে গরুর মাংসের দাম ৭৮০-৮০০ টাকা মধ্যে রয়েছে। ঈদের আগে এই দাম আরও বাড়তে পারে বলে বিক্রেতারা জানান।
গত সপ্তাহের চেয়ে দাম আরও কমে ফার্মের মুরগির সাদা ডিম প্রতি ডজন ৮৫-৯০ আর বাদামি ডিম ১০০-১০৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারগুলোতে খুচরায় বেগুন বিক্রি হয়েছে ৮০-১০০ টাকা কেজি। টমেটোর দাম নেমেছে ৪০-৫০ টাকা কেজি, শসা-ক্ষীরা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে। বাজারে এখন ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে মুলা, গাজর, পেঁপে, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ পাঁচ থেকে ছয় ধরনের সবজি। লাউ আগের মতোই ৬০-৮০ টাকা প্রতিটি। এ ছাড়া ক্ষীরা, শসা, বেগুন, গাজরসহ অন্যান্য সবজি বিক্রি হচ্ছে গত সপ্তাহের দামেই।
লেবুর হালি এখনো ৬০-১০০ টাকা। দিগুবাবুর বাজারের সবজি বিক্রেতা মোতালিব বলেন, লেবুর দাম ঈদের আগে আর কমার সম্ভাবনা নেই। তবে লেবুর সরবরাহ কিছুটা বাড়বে।
বাজারে এখন করলা, ঢ্যাঁড়স, কচুর লতিসহ চার থেকে পাঁচ ধরনের সবজির দাম ১০০ টাকার ওপরে রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য সবজির দাম অনেকটাই কমেছে। ভালো মানের কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ১২০-১৪০ টাকা কেজি।
বাজারগুলোতে খোলা ও প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১১০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহে এ দামেই বিক্রি হয়েছিল। তবে মসুর ডালের দাম কিছুটা বাড়তির দিকে। বড় দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১০০-১০৫ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৯৫-১০০ টাকা। এ ছাড়া ছোট দানার আমদানি করা ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৬৫-১৭০ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৬০-১৬৫ টাকা। এ ছাড়া মাঝারি মানের মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৪৫ টাকা কেজি দরে।
তবে রোজার অন্যতম চাহিদার পণ্য ছোলা দাম আগের মতোই রয়েছে। বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৯০ টাকায়।
এ ছাড়া পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ মসলাজাতীয় পণ্যের দামও আগের মতো রয়েছে। দেশীয় পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে ৪০-৪৫, রসুন ৬০-১২০, আমদানি করা আদা বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৫০ এবং আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা কেজি দরে।
মতামত