সারাদেশ

সোনারগাঁয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের হামলায় যুবদল নেতা দুলাল আহত

প্রিন্ট
সোনারগাঁয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের হামলায় যুবদল নেতা দুলাল আহত

প্রকাশিত : ৭ মার্চ ২০২৬, রাত ১১:৩০

সোনারগাঁ উপজেলায় সাদিপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দুলাল মিয়া নিজ দলের নেতাকর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তার মাথায় প্রায় ১০টি সেলাই দিতে হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন আন্দোলনুসংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে দুলাল মিয়া মামলার শিকার হয়ে ৫৭ দিন কারাভোগ করেছিলেন। সেই সময় তাকে না পেয়ে পুলিশ তার কিডনি রোগে আক্রান্ত বড় ভাই আব্দুর রহিমকেও ধরে নিয়ে যায় বলে পরিবারের দাবি। বর্তমানে ওই ভাই জীবনুমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সমপ্রতি একটি দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান ভূইয়া মাসুমের নির্দেশে দুলাল মিয়ার ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। হামলায় সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক এরশাদ তার মাথায় একাধিকবার আঘাত করলে তার মাথা ফেটে যায় এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এছাড়া সাদিপুর ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মনা তাকে মারধর করে পা ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েনিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে তার মাথায় প্রায় ১০টি সেলাই দেওয়া হয়।

হামলার ঘটনায় দলীয়ভাবে এখনো কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আহত দুলাল মিয়ার স্বজন ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বলেন, “নিজ দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা দলীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছি।”

হামলার শিকার দুলাল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “ঘটনার প্রায় একমাস পার হলেও দল থেকে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে আমি থানায় অভিযোগ করেছি। তবে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপর মহলের অনুমতি ছাড়া আসামি গ্রেফতার বা তদন্ত এগোনো যাবে না।”

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনারগাঁ থানার এসআই শিকদার হারুন অর রশিদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “মামলার তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। আসামিরা পলাতক রয়েছে।”

অন্যদিকে মামলার প্রধান আসামি কামরুজ্জামান ভূইয়া মাসুম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঘটনার আগে আমার কয়েকজন লোকের ওপর আক্রমণ করা হয়। পরে তারা ফেরার পথে আমাদের পথরোধ করে। তখন প্রতিরোধ করতে গিয়ে আমার নেতাকর্মীরা পাল্টা হামলা করেছে।”

তবে স্থানীয়দের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে পথরোধ নয়, বরং লাঠিসোঁটা নিয়ে সজ্জিত হয়ে কামরুজ্জামান ভূইয়া মাসুমের নেতৃত্বে কয়েকজন দুলাল মিয়ার ওপর হামলা চালায়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দুলাল মিয়া ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন নয়াপুর বাজারে একটি দলীয় কর্মসূচি শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। তারা নয়াপুর সিটি মার্কেটের আল-ফাতাহ হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে পূর্ব শত্রুতার জেরে অভিযুক্তরা অতর্কিত হামলা চালায়।

এ ঘটনায় দুলাল মিয়া বাদী হয়ে গত বুধবার (৪ মার্চ) সোনারগাঁ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান ভূইয়া মাসুম, সাদিপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এরশাদ ওরফে ডাকাত আসাদ, সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভূইয়া এবং সাদিপুর ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মনাকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধান আসামির নেতৃত্বে অন্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুলাল মিয়া, নাঈম, আলী, মাসুদ ও সালমানের ওপর হামলা চালায়। এ সময় রামদা দিয়ে দুলাল মিয়ার মাথায় কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করা হয় এবং লোহার পাইপ দিয়ে তার পায়ে আঘাত করে হাড় ভেঙে ফেলা হয়। এছাড়া তার চোখে আঘাতের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসময় হামলাকারীরা দুলাল মিয়ার কাছ থেকে নগদ ১১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলেও মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।