নারায়ণগঞ্জ সদর থানার পুলিশের নির্দেশনা উপেক্ষা করে আবারও আলী হোসেন মেম্বারের বাড়ি দখলের পাঁয়তারা করছে মিলন গ্যাং। এমনকি পুলিশ কর্তৃক লাগানো আইনি নোটিশ ছিঁড়ে ফেলারও অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ( ৩ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে সদর মডেল থানার পুলিশের সহায়তায় প্রকৃত মালিক আলী হোসেন মেম্বারের সহধর্মিণী পান্না আক্তার ভবনটি উদ্ধার করতে গেলে রাবেয়া সুলতানার ছেলে-মেয়েরা ভবনটির মালিকানা দাবি করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরে পুলিশ দখলদারদের ভবন থেকে বের করে ভবনটিতে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ থানায় উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যথাযথ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত মালিকের নিকট ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে মিলন গ্যাং ফের ভবনটি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। শনিবার তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের লাগিয়ে দেওয়া আইনি নোটিশ ছিঁড়ে ফেলে।
এছাড়াও ভবনের প্রকৃত মালিক আলী হোসেন মেম্বারের সহধর্মিণী পান্না আক্তারকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিলন গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশ করেই মিলন গ্যাং এমন দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, যদি কেউ সরকারি নোটিশ ছিড়ে ফেলে বা ফেলে দেয় তা দণ্ডনীয় অপরাধ। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর আমি দুই পক্ষকে বলেছি কাগজ নিয়ে থানায় আসতে দুই পক্ষের কাগজ যাচাই-বাছাই করে যে প্রকৃত মালিক তার কাছেই বাড়ি চাবি তুলে দেওয়া হবে এর আগ পর্যন্ত বাড়ি তালাবদ্ধ থাকবে। আর যদি বেআইনিভাবে কেউ ভবনে প্রবেশ করার দুঃসাহস দেখায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জ সদর থানাধীন ১৮নং ওয়ার্ডের শহীদ নগর এলাকায় চাঁদার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক ভবন দখলের পাঁয়তারা এবং ভবনে অবস্থিত একটি স্কুলে ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে রাবেয়া সুলতানা ও হোসেন মিলন গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোসাঃ পান্না আক্তার (৪৭), পিতা- আবুল কাসেম, মাতা- হোসনে আরা বেগম, সাং- মসিনাবন্দ পূর্ব, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল, একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং- ২২(২)২৬।
মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে—১) রাবেয়া সুলতানা (৩৯), স্বামী- হোসেন মিলন ২) হোসেন মিলন (৪৮), পিতা- মৃত সুরুজ মিয়া ৩) মোঃ মামুন হোসেন (৪০), পিতা- মৃত সুরুজ মিয়া ৪) মোঃ জাবেদ (৪৫), পিতা- খালেক বেপারী ৫) সবুজ (৩০), পিতা- অজ্ঞাত এছাড়াও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন ১৮৮ হোল্ডিং, শহীদ নগর ২নং গলিস্থ একটি ভবন প্রায় ১৬ বছর আগে ক্রয় করা হয় এবং পরবর্তীতে ভবনটি তিনতলা পর্যন্ত নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে ভবনটি জনাব মোঃ হেলাল উদ্দিন (৫৮), পিতা- মৃত আব্দু শুকুর, সাং- দিয়ারা মসজিদ সংলগ্ন, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন এলাকায় মাসিক ভাড়ার ভিত্তিতে ব্যবহার করে আসছেন। তিনি সেখানে “এরাবিয়ান স্কুল বাংলাদেশ” নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
মতামত