অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৭ বছর ধরে শীর্ষ সন্ত্রাসী পানি আক্তারের ছায়াতলে থেকে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে এই রমজান। গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দমনে সে সম্মুখ সারিতে থেকে আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। ৫ই আগস্টের পর রাজনৈতিক পটভূমি পাল্টালেও এলাকায় তার দাপট ও প্রভাব কমেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিহারী ক্যাম্পের একাধিক বাসিন্দা জানান, রমজানের অত্যাচারে তারা অতিষ্ঠ। পানি আক্তারের ক্ষমতা ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালাত সে। কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখালে তাকে রমজান বাহিনীর হাতে নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হতে হতো। বর্তমানেও তার বাহিনীর ভয়ে সাধারণ মানুষ তটস্থ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
রমজান শুধু সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডেই নয়, এলাকায় মাদকের বড় ডিলার হিসেবেও পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার ভাই ফয়সালসহ পরিবারের প্রায় সব সদস্যই এই মরণনেশা মাদক ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত। উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ই জুন যৌথ বাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদকসহ রমজানের মা আয়েশা বেগম (৫০) গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। বর্তমানে রমজানের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মারামারি, মাদক ও হত্যাচেষ্টাসহ অন্তত ৮টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহাম্মদ আব্দুল বারিক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,
আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। মাদক ব্যবসায়ী যতই শক্তিশালী হোক না কেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় আমি যতদিন আছি, মাদক কারবারিদের ধ্বংস করে ছাড়ব যাতে তারা আর মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে।
ওসি আরও জানান, বর্তমানে এই থানায় সবচেয়ে বেশি মামলা হচ্ছে মাদকের বিরুদ্ধে এবং নিয়মিত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। রমজানসহ পলাতক অন্য আসামিদের ধরতেও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অতি দ্রুত রমজান ও তার পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং বিহারী ক্যাম্প এলাকাকে চিরতরে মাদকমুক্ত ও শান্তিময় জনপদে রূপান্তর করা হোক।
মতামত