আহত ফয়সাল মাহমুদ পশ্চিম কলাবাগ ওমরপুর এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান ওরফে মনার ছেলে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চিহ্নিত মাদক সম্রাট মোক্তার হোসেনের নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র চক্র দীর্ঘদিন ধরে ওমরপুর ও আইয়ুবনগর এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং জমি দখলের রাজত্ব কায়েম করেছে।
ঘটনার দিন রাতে ফয়সাল মাহমুদ বাসায় ফেরার পথে আইয়ুবনগর মেইন গেট এলাকায় ওত পেতে থাকা মোক্তার ও তার সহযোগীরা রামদা ও চাপাতি নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা ফয়সালের মাথা ও হাতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ছেলের চিৎকারে পিতা আব্দুল মান্নান বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত ফয়সাল বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা (খানপুর) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এই ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২২ জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রধান অভিযুক্তরা হলেন, মোক্তার হোসেন (৩০), আল আমিন নগর এলাকার ডিম ওয়ালা কালামের ছেলে। মনির ভান্ডারী (৫০), গিয়াস উদ্দিন (২৫), আক্তার হোসেন (৩৫), মাহবুব (৩২), আনোয়ার হোসেন (৩৫), রবিউল ইসলাম (৪০), সোহান (১৯), বাবু (২৮), আকাশ (৩০), জুয়েল রানা (২৫) ও বুইট্রা রনি (২৬)।
সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বুধবার বিকেল ৩টায় আইয়ুবনগর এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে শত শত মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাদকের প্রতিবাদ করায় যদি এভাবে রক্ত ঝরাতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম প্রিন্স, বিএনপি নেতা মো. হারুন অর রশিদ, ফজলুল হক মিলন, লুৎফর রহমান জিমি, মনির হোসেন সাউদ এবং ডা. মনির হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পুনরায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
মতামত