সারাদেশ

স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহে ও লেভেল শিক্ষার্থী খুন: ৯ মাস পর রহস্য উদ্ঘাটন গ্রেপ্তার ৩

প্রিন্ট
স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহে ও লেভেল শিক্ষার্থী খুন: ৯ মাস পর রহস্য উদ্ঘাটন গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিত : ১১ মে ২০২৬, দুপুর ১:১৩

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেক থেকে উদ্ধার হওয়া ও লেভেলের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন আরাফাত (১৭) হত্যাকাণ্ডের ৯ মাস পর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহের জেরে এই মেধাবী শিক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (১০ মে) দুপুরে পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

গেস্খপ্তারকৃতরা হলেন, সোনারগাঁয়ের মো. আজিম হোসাইন (২৭), সিদ্ধিরগঞ্জের ফয়সাল (২৭) এবং রূপগঞ্জের নুসরাত জাহান মিম (২৪)। এদের মধ্যে মূল আসামি আজিম আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি দুজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জানায়, আসামি আজিমের সঙ্গে মিমের বিয়ে হলেও দাম্পত্য কলহের জেরে তারা আলাদা থাকতেন। ঘটনার প্রায় এক মাস আগে মিমের ফেসবুক মেসেঞ্জারে ইয়াছিনের বার্তা দেখে সন্দেহ করেন আজিম। ইয়াছিন মূলত মিমের ফুফাতো ভাই হলেও মিম বিষয়টি আজিমের কাছে স্পষ্ট করেননি। স্ত্রীর প্রেমিক সন্দেহে ক্ষুব্ধ হয়ে বন্ধু ফয়সালকে নিয়ে ইয়াছিনকে হত্যার ছক কষেন আজিম।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত বছরের ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় ওষুধ কিনতে বাসা থেকে বের হলে ইয়াছিনকে কৌশলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নেন আজিম ও ফয়সাল। পরে সিদ্ধিরগঞ্জের আশরাফ আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে ডিএনডি লেকপাড় এলাকায় নিয়ে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয় এবং লাশ লেকে ফেলে দেওয়া হয়। নিখোঁজের দুই দিন পর ১৩ আগস্ট পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।

নিহতের মা আফরিনা নাসরিন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলেও দীর্ঘদিনে এর কোনো রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত ৫ ও ৬ মে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

এ ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।