বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে চাষাড়া ও নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায় শত শত যাত্রী ট্রেনের অপেক্ষায় প্ল্যাটফর্মে ভিড় করে আছেন। অধিকাংশ যাত্রীই জানতেন না যে ট্রেন চলাচল বন্ধ। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর যখন তারা বিষয়টি জানতে পারেন, তখন তাদের চোখেমুখে দেখা দেয় হতাশা আর উৎকণ্ঠা।
দিনাজপুরগামী যাত্রী রাশেদ জানান, কমলাপুর থেকে বড় ট্রেনের টিকিট আগেই কাটা ছিল। সময়মতো পৌঁছানোর জন্য চাষাড়া স্টেশনে এসেছিলেন, কিন্তু এসে শোনেন ট্রেন নেই। এখন বাধ্য হয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাড়ায় বিকল্প পথ খুঁজছেন তিনি।
ট্রেন বন্ধ থাকার সুযোগে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড ও পুরাতন সড়কে গণপরিবহনের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বাসগুলো দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চাষাড়া থেকে কমলাপুর পর্যন্ত যেখানে সাধারণ ভাড়া ৫০০ টাকা, সেখানে হাজার টাকার নিচে কোনো যানবাহন যেতে চাচ্ছে না। রাশেদা বেগম নামে এক যাত্রী অভিযোগ করেন, ট্রেন বন্ধের খবর পেয়ে বাসগুলোও এখন সিন্ডিকেট করে বেশি ভাড়া নিচ্ছে।
বুধবার বিকেলে সর্বশেষ ট্রেনটি ঢাকা অভিমুখে ছেড়ে যাওয়ার পর থেকেই এই রুটে চাকা ঘোরা বন্ধ রয়েছে। তবে ঈদের ঠিক আগে কেন এমন জনভোগান্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তার স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছে না স্থানীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কামরুল ইসলাম বলেন, বুধবার বিকেলে সর্বশেষ ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার পর ঢাকা অফিস থেকে হঠাৎ ট্রেন চলাচল বন্ধের নির্দেশ আসে। তবে ঈদের এই পিক সিজনে কেন এমন সিদ্ধান্ত, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো কারণ আমাদের জানানো হয়নি।
ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে সরকার যখন নানা উদ্যোগের কথা বলছে, তখন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে ট্রেন বন্ধ রাখায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দ্রুত ট্রেন চলাচলের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রীরা।
মতামত