সারাদেশ

সিদ্ধিরগঞ্জে বিজিবি ও জেলা প্রশাসনের অভিযান: ৯১০০ লিটার ডিজেল জব্দ গ্রেফতার ১

প্রিন্ট
সিদ্ধিরগঞ্জে বিজিবি ও জেলা প্রশাসনের অভিযান: ৯১০০ লিটার ডিজেল জব্দ গ্রেফতার ১

প্রকাশিত : ১ এপ্রিল ২০২৬, রাত ৯:২৭

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে জেলা প্রশাসন ও বিজিবির যৌথ অভিযানে অবৈধভাবে মজুদ করা ৯ হাজার ১০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত টানা অভিযানে অবৈধ মজুদের দায়ে সিফাত গাজী নামে এক যুবককে দুই মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন ও ৬২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ খান। এসময় উপস্থিত ছিলেন ৬২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মির্জা মোহাম্মদ আরাফাত, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক।

ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ খান জানান, অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদের বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় সিফাত গাজীকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম আইনে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত ডিজেল মেঘনা ডিপোর ডিজিএম-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই অবৈধ তেল ব্যবসার মূল হোতা সিদ্ধিরগঞ্জের সাবেক ৬ নং ওয়ার্ড সাবেক কাউন্সিলর সিরাজ মন্ডলের ছেলে জাহিদ ও প্রান্ত। তারা দীর্ঘদিন ধরে এসও ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন এলাকায় ফার্নিশ ওয়েল ব্যবসার আড়ালে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানের ছত্রছায়ায় তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং এই তেল চুরির মহোৎসব শুরু করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সিরাজ মন্ডল ও তার ছেলেরা গত ১৭ বছর ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও সিরাজ মন্ডল ও তার ছেলে জাহিদ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের ম্যানেজার সিফাত গাজী গ্রেফতার হলেও মূল হোতারা ধরা না পড়ায় জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, মাদক ও তেল চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত এই চক্রটিকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

বিজিবি ও প্রশাসন জানিয়েছে, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।