সারাদেশ

সিদ্ধিরগঞ্জে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে বিএনপির দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

প্রিন্ট
সিদ্ধিরগঞ্জে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে বিএনপির দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

প্রকাশিত : ৫ এপ্রিল ২০২৬, রাত ১০:৪৫

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক হট্টগোল ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই উত্তজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে এই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে।

সকাল ১১টা থেকে জেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ মহাসড়কে যানজট নিরসন ও জনভোগান্তি কমাতে যৌথ অভিযান শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযান চলাকালে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবির ছেলে যুবদল নেতা রিয়াজুল ইসলাম রিনাজ ও রতন-রানা গ্রুপের ১০-১৫ জন সদস্য এলাকায় মহড়া দিচ্ছিলেন।

একপর্যায়ে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির গ্রুপের জিহাদ ও রবিনসহ ১০-১২ জনের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তেই তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে সরিয়ে দেয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক জানান, উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বিএনপির সমর্থক দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল হয়েছে। তবে এটি ফুটপাত দখল নিয়ে নয়, বরং একটি মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

উত্তেজনা সত্ত্বেও দুপুর ৩টা পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা প্রায় ৫ শতাধিক অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার শামিত রাজা। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন, আহসান মজুমদার উপ-বিভাগীয় সহকারী প্রকৌশলী (সওজ)। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যবৃন্দ।

সওজ কর্মকর্তারা জানান, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সার্ভিস লেন দখল করে দোকান বসিয়ে যানজট সৃষ্টি করছিল। বিশেষ করে আদমজী ইপিজেডগামী শ্রমিকদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। আজকের এই অভিযানের ফলে মহাসড়ক এখন দখলমুক্ত।

ঘটনার বিষয়ে জানতে জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির ফোন ধরলেও সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহাসড়ক দখলমুক্ত রাখতে এই ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। কেউ পুনরায় ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।