নিহত জাহিদ হাসান চাটমোহর উপজেলার অমৃতকুন্ডা গ্রামের কাজেম প্রামাণিকের ছেলে। গত ২৩ মার্চ সাঁথিয়া উপজেলার সিলন্দা বাজার এলাকায় নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর দুই দিন আগে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরবাড়ি নৌ পুলিশের এসআই মো. আইনুল তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দোহাই দিয়ে তিনি দায় এড়িয়ে যান। এমনকি প্রতিবেদকের প্রশ্নের মুখে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলেন, আপনার যা খুশি সংবাদ করেন, এতে আমার কিছু যায় আসে না। পুলিশের এমন অপেশাদার আচরণ ও দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের বাবা কাজেম প্রামাণিক। বড় ভাই জাকির প্রামাণিকের অভিযোগ, পুলিশ আসামিপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কাউকে গ্রেপ্তার করছে না।
জাহিদের পরিবারের দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ পরকীয়া ও জমি বিতর্ক জাহিদের স্ত্রী ছালমা খাতুন পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন এবং জাহিদের জমি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন।
মৃত্যুর কিছুদিন আগে জাহিদ এনজিও থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ওই টাকা হাতিয়ে নিতেই তাকে হত্যা করা হতে পারে।
স্ত্রী জাহিদকে মানসিকভাবে অসুস্থ দাবি করলেও স্বজনরা বলছেন, জাহিদ সুস্থভাবে ডিস লাইনের বিল আদায়ের কাজ করতেন। একজন অসুস্থ মানুষের হাতে কেউ সংসারের দায়িত্ব দেয় না।
ছোট ভাই জিহাদ হাসান শুভ জানান, গত ২০ মার্চ জাহিদকে জোর করে ফরিদপুরের ডেমরা গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই দিন সন্ধ্যা থেকেই তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। ২৩ মার্চ নদীতে লাশ পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে পরিবার তাকে শনাক্ত করে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জাহিদের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
মতামত