অনুসন্ধানে জানা যায়, আদমজী নতুন বাজার এলাকার পক্ষী মজিবরের ছেলে নাহিদ একজন চিহ্নিত কিলার এবং মাদক সম্রাট। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে বিহারী কলোনির আতঙ্কের নাম মাদকের ডিলার রমজান। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে দশটিরও বেশি মামলা। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর শীর্ষ সন্ত্রাসী পানি আক্তার এলাকা ছাড়লে কলোনির পুরো মাদক সাম্রাজ্য রমজানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। শুরুতে নাহিদের সাথে জোট বাঁধলেও বর্তমানে রমজান একাই একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিহারী ক্যাম্প থেকে ছিঁচকে মাদক বিক্রেতারা গ্রেফতার হলেও রমজান ও নাহিদ দিব্যি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কিছু অসাধু কর্মকর্তা রমজানের কাছ থেকে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাকে গ্রেফতার এড়িয়ে চলছেন। কোনো এক অদৃশ্য কারণে তারা বারবার বেঁচে যাচ্ছে, যার ফলে অত্র এলাকায় মাদকের জয়জয়কার দিন দিন বেড়েই চলেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, রমজানের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। প্রতিবাদ করলেই জোটে মিথ্যা মামলা কিংবা প্রাণনাশের হুমকি। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ইয়াবাসহ সব ধরনের মরণনেশা ছড়িয়ে দিয়ে যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে এই চক্রটি। প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ছাড়া এই মাদক সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছি। আমি যোগদানের পর থেকে একাধিক অভিযান ও মামলা হয়েছে। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তবে মাদক নির্মূলে এলাকাবাসীর সঠিক তথ্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন। আদমজী বিহারী কলোনির সাধারণ মানুষ এখন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি তদারকি ও এই দুই মাদক গডফাদারের দ্রুত গ্রেফতারের প্রহর গুনছেন।
মতামত