ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে রাশেদ খান রাজুর (৪৫) সঙ্গে নুরজাহানের বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের ১৪ বছর বয়সী এক ছেলে ও ৫ বছরের এক মেয়ে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই রাজু পরকীয়া ও মাদকসহ নানা উশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। সংসারের খরচ মেটানো তো দূরের কথা, উল্টো নুরজাহানের তিল তিল করে গড়ে তোলা ক্ষুদ্র দোকানের আয়ের ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে তার। রাজুর এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলেই নুরজাহানের ওপর নেমে আসে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
নুরজাহান এক হৃদয়বিদারক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, তার বড় ছেলের বয়স যখন মাত্র চার মাস, তখন তাকে দেখাশোনার জন্য নিজের ১২ বছর বয়সী ছোট বোনকে বাসায় নিয়ে আসেন। একদিন কাজের সুবাদে নুরজাহান বাইরে গেলে লম্পট রাজু তার ছোট বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ওই ঘটনায় নুরজাহান বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা দায়ের করেন। তবে ধূর্ত রাজু পরবর্তীতে মায়াকান্না ও কৌশলী চাপে পড়ে সংসারের মায়ায় মামলাটি প্রত্যাহার করতে নুরজাহানকে বাধ্য করেন। মামলা প্রত্যাহারের পর কিছুদিন শান্ত থাকলেও আবারও শুরু হয় পুরোনো বর্বরতা।
গত ১২ এপ্রিল সকালে সংসারের খরচ চাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজু আবারও তাণ্ডব চালায়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে নুরজাহানকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করে। শুধু শারীরিক নির্যাতনই নয়, ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করাসহ নুরজাহানের শেষ সম্বল দোকানটি জোরপূর্বক বিক্রির পাঁয়তারা করছে রাজু। বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন এই নারী, পাচ্ছেন প্রাণনাশের হুমকিও।
স্থানীয় বিহারী ক্যাম্পে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও রাজুর আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। নিরুপায় হয়ে নুরজাহান বেগম সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ফজলুল হক বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই পাষণ্ড স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এ ধরনের অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে সমাজে নারী নির্যাতনের প্রবণতা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।
মতামত