দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট মরিয়ম পড়াশোনায় ধারাবাহিক সাফল্য দেখিয়ে রাজধানীর সরকারি কলেজ অব নার্সিং, শেরে বাংলা নগরে ভর্তির সুযোগ অর্জন করে। কিন্তু ভর্তি সংক্রান্ত ব্যয় মেটাতে গিয়ে তার পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। পিতা মোজাফফর আলীর পক্ষে প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা কঠিন হয়ে ওঠে।
এই অবস্থায় তিনি স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। বিষয়টি জানার পর ঝিনাইগাতি উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে শেরপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশীদ পলাশ ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।
বুধবার সকাল ১১টায় মরিয়মের হাতে ১০ হাজার টাকার শিক্ষা বৃত্তির চেক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় প্রশাসক পলাশ বলেন, যারা মানুষের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করতে চায়, তাদের পাশে দাঁড়ানো দায়িত্বের অংশ। তিনি আরও বলেন, নার্সিং পেশা মানবিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র এবং মরিয়ম ভবিষ্যতে দেশের সীমানা পেরিয়েও অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদী।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে মরিয়ম। তার চোখে আনন্দের অশ্রু ধরা পড়ে। পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদ প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
এই ঘটনা কেবল একজন শিক্ষার্থীর সহায়তা পাওয়ার গল্প নয়, বরং এটি সংকটের মধ্যেও স্বপ্নকে ধরে রাখার শক্তি এবং সমাজের মানবিক উদ্যোগের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
মতামত