শেষকৃত্যানুষ্ঠানে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগম, থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বলিদ্বারা গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৭১ সালে টেপরী রাণীর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। পরিবারের প্রাণ বাঁচাতে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্যাম্পে টানা সাত মাস বন্দি থেকে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি। দেশ স্বাধীনের পর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বাড়ি ফিরলে সমাজ তাঁকে আপন করে নেয়নি। সমাজের শত কটূক্তি ও গঞ্জনা সহ্য করে তিনি জন্ম দেন ছেলে সুধীর বর্মনের। দীর্ঘ অবহেলার পর অবশেষে ২০১৭ সালে তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পান।
মায়ের স্মৃতিচারণ করে ভ্যানচালক ছেলে সুধীর বর্মন বলেন, আমাকে নিয়ে মাকে সমাজের অনেক অপমান সহ্য করতে হয়েছে। তবে ২০১৭ সালে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পাওয়ার পর আমাদের জীবনে কিছুটা সম্মান ও স্বস্তি আসে। দেশের জন্য মায়ের এই ত্যাগ ভোলার নয়।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, টেপরী রাণী শুধু একজন বীরাঙ্গনা নন, তিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত ইতিহাস। ইউএনও খাদিজা বেগম জানান, দেশের জন্য তাঁর এই অসামান্য অবদান ও আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
মতামত