মামলার আসামিরা হলেন, নিহতের স্বামী শাহিনুর রহমান (চান্দু), শ্বশুর মো. মুসলিম উদ্দীন এবং শাশুড়ি সাহেরা খাতুন। তারা সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে শাহিনুরের সঙ্গে মিতুর বিয়ে হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মিতুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলত। স্বামী শাহিনুর মাদক ও জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। ঘটনার দিন বাবার বাড়ি যাওয়ার জন্য স্বামীর কাছে টাকা চাইলে মিতুকে মারধর করা হয় এবং শ্বশুর-শাশুড়িও তাকে গালিগালাজ করেন। নির্যাতনের একপর্যায়ে মিতু আত্মহত্যার কথা বললে স্বামী তাকে উসকানি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ওইদিন বিকেলে ঘরের মেঝে থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা দেবারু মোহাম্মদ আহাজারি করে বলেন, যৌতুকের জন্য প্রায়ই আমার মেয়েকে মারধর করা হতো। গোসল করানোর সময় তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। জুনে আমার মেয়ের সন্তান জন্ম নেওয়ার কথা ছিল। অনাগত সন্তানসহ আমার মেয়েকে যারা মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এদিকে, ময়নাতদন্তে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. খোদাদাদ হোসেন জানান, পুলিশের আইনি কার্যক্রমে কোনো গাফিলতি ছিল না। ডোম বা চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারণে ময়নাতদন্তে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। সোমবার (১ জুন) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মতামত