স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাজী নাজমুল ইসলাম লিটু সাবেক এমপি খোকার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তার বহু সাম্রাজ্য দেখাশোনা করতেন। পরে ২০২৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কায়সার হাসনাত এমপি হওয়ার পরও লিটুর প্রভাবে কোনো চির ধরেনি বরং তার সঙ্গে হাত মিলিয়ে এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেছেন তিনি।
এমনকি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শুরুতে উপহাস এবং অন্তরালে থেকে আন্দোলন নস্যাতের চেষ্টা করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে ৫ আগস্টের পর রাতারাতি রঙ বদলে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্ঠ বনে যান।
অভিযোগ উঠেছে, ৫ আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থেকে বর্তমানে স্থানীয় সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, তার ছেলে জেলা যুবদল নেতা খাইরুল ইসলাম সজীব এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রকাশ্যেই ঘুরছেন লিটু। বিএনপির বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচি আয়োজনেও তাকে সম্মুখভাগে দেখা যাচ্ছে, যা দেখে সাধারণ মানুষের মনে হচ্ছে তিনি যেন বিএনপিরই বড় কোনো ত্যাগী নেতা।
লিটুর এই আকস্মিক ভোল পাল্টানো নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বিএনপি নেতা বলেন, জাতীয় পার্টির এই চিহ্নিত দোসরকে যখন আমাদের দলের কর্মসূচিতে দেখি, তখন বুক ফেটে যায়। এরা আসলে কালসাপ। নিজের স্বার্থ ও সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে বিএনপিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এরা দলের ভেতরের গোপন তথ্য পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে পাচার করছে না তার কী গ্যারান্টি?
নেতাকর্মীদের দাবি, সুযোগসন্ধানী এই হাইব্রিড নেতাদের কারণে দলের প্রকৃত ত্যাগী কর্মীরা অবমূল্যায়িত হচ্ছেন। দল ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানসহ শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি অবিলম্বে এসব সুবিধাবাদী উপাদান দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মতামত