কারাগার থেকে বের হয়ে সাবেক এই মেয়র সরাসরি চলে যান নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর কেন্দ্রীয় সিটি কবরস্থানে। সেখানে বাবা, মা ও ছোট ভাইয়ের কবর জিয়ারত শেষে রাত সাড়ে বারোটার দিকে শহরের দেওভোগের নিজ বাসভবন চুনকা কুটিরে পৌঁছান তিনি। এ সময় কোনো মিছিল বা স্লোগান না থাকলেও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের সতর্ক অবস্থান ছিল চোখে পড়ার মতো।
ঘরে ফিরে সাংবাদিকদের দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আইভী বর্তমান সরকারের প্রতি ধন্যবাদ ও বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বলেছেন তারা মানবিক সরকার গঠন করবেন। আমি চাই সকলকে নিয়ে মানবিক সরকার গঠিত হোক। জেলে আমার মতো আরও অনেক মা আছেন যারা নিরপরাধ। আশা করি, সরকার তাদের প্রতিও সদয় হবেন।
উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ের তিনটি হত্যা ও দুটি হত্যাচেষ্টাসহ মোট ১২টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আইভীর আইনজীবী আওলাদ হোসেন জানান, মামলাগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক। আইনি লড়াইয়ের পর গত ৩০ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্র্বতীকালীন জামিন পান তিনি। পরে রাষ্ট্রপক্ষ জামিন বাতিলের আবেদন করলেও আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখায় অবশেষে এক বছরেরও বেশি সময় পর তার মুক্তির পথ সুগম হয়।
মতামত