নিহতরা হলো, রাজধানীর শনিআখড়া এলাকার বর্ণমালা স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র মেরাজ (১৫) এবং ধনিয়া এলাকার এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র কায়েস ভূঁইয়া (১৩)।
স্থানীয় ও সহপাঠী সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে রাজধানীর এ কে স্কুল এবং বর্ণমালা স্কুলের ৭ বন্ধু একত্রিত হয়ে সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ঘুরতে আসে। দুপুর ২টার দিকে তারা নদীতে গোসলে নামে। একপর্যায়ে দুই বন্ধু পানিতে তলিয়ে যেতে লাগলে মেরাজ ও কায়েস তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে যায়। কিন্তু তীব্র স্রোতের কারণে সাঁতার না জানা মেরাজ ও কায়েস নিজেই নদীর পানিতে তলিয়ে যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশন-এর একটি চৌকস দল। স্টেশন লিডার মোঃ হারুন অর রশিদ-এর নেতৃত্বে ডুবুরী মোঃ আশিক মাহমুদ, মোঃ সাদিক এবং ফায়ার ফাইটার মোঃ মোরছালিন যৌথভাবে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। তীব্র স্রোত উপেক্ষা করে প্রায় চার ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে বিকেল ৪টার দিকে একে একে দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সাঁতার না জানা এবং নদীর তীব্র স্রোতের কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার ও বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহাবুবুর রহমান জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতদের পরিবার জানায়, সন্তানরা যে স্কুল ফাঁকি দিয়ে নদীতে ঘুরতে এসেছে তা তারা জানতেনই না। কিশোর বয়সের দুই শিক্ষার্থীর এমন অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুতে এলাকায় এবং তাদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মতামত