শনিবার রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা সেতুসংলগ্ন নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, তিস্তা অববাহিকার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, সংরক্ষিত পানি কৃষি ও মৎস্য খাতে ব্যবহার করা গেলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটবে। তিস্তা নদীর ড্রেজিং, পানি সংরক্ষণ এবং সার্বিক নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে বর্তমানে কারিগরি সমীক্ষা চলছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় ইতোমধ্যে নয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা প্রকল্পটির কারিগরি দিক, সম্ভাব্যতা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের বিভিন্ন দিক সরেজমিনে মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, দেশি-বিদেশি নদী ও পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে প্রকল্পটির কারিগরি পর্যালোচনা চলছে। প্রতিটি বিষয় গভীরভাবে মূল্যায়ন করে একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, চলতি বছরের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে। এ বিষয়ে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে স্থানীয় জনগণকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. এনায়েত উল্লাহ, রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং তিস্তা পাড়ের বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রী তিস্তা ব্যারাজ এবং নদীভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে তিস্তা ব্যারাজসংলগ্ন একটি মিলনায়তনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
মতামত