সারাদেশ

তিস্তার তীব্র স্রোতে ধসছে মহিপুর সেতুর সুরক্ষা বাঁধ: হুমকিতে আঞ্চলিক সড়ক

প্রিন্ট
তিস্তার তীব্র স্রোতে ধসছে মহিপুর সেতুর সুরক্ষা বাঁধ: হুমকিতে আঞ্চলিক সড়ক

প্রকাশিত : ২১ জুন ২০২৬, রাত ৯:০২

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর-কাকিনা আঞ্চলিক সড়কে নির্মিত তিস্তা সড়ক সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিস্তা নদীর পানির তীব্র স্রোতে সেতুর সুরক্ষা বাঁধের সিসি (কংক্রিট) ব্লক ধসে বাঁধের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে তিস্তা সড়ক সেতু ও আঞ্চলিক সড়কসহ আশপাশের অন্তত ছয়টি গ্রামের হাজারো মানুষ, বসতভিটা ও বিস্তূর্ণ কৃষিজমি নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শনিবার সন্ধ্যা থেকে প্রায় ৮০০ মিটার দীর্ঘ সুরক্ষা বাঁধে ভাঙন শুরু হয়। রোববার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৩৫ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং ভাঙনস্থলে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক ও মূল কাঠামোও হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, গত বছর ভাঙনের পর এলজিইডিকে ব্লক ফেলে স্থায়ীভাবে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা স্থায়ী কাজ না করে বাঁশের পাইলিং করে দায় সারে। এখন সেই পাইলিং ভেঙে নদীর স্রোত সরাসরি বাঁধে আঘাত করছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো বাঁধ ধসে সেতু ও সড়ক অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, মহিপুর সেতু এলাকায় তিস্তার স্রোত বেশি হওয়ায় শুধু বাঁশের পাইলিং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হয় না। সুরক্ষা বাঁধটি এলজিইডির আওতাধীন হওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তাদেরই নিতে হবে। তবে কারিগরি সহায়তা দিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, পানির তীব্র স্রোতের কারণে সিসি ব্লক ধসে যাচ্ছে। বাঁধ রক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। সুরক্ষা বাঁধটি রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

উল্লেখ্য, মহিপুরে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি রংপুরের সঙ্গে লালমনিরহাট জেলার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত যানবাহন এবং হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। সাময়িক কোনো ব্যবস্থা না করে, এখানে দ্রুত টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।