সারাদেশ

জলঢাকায় টেন্ডার ছাড়াই সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

প্রিন্ট
জলঢাকায় টেন্ডার ছাড়াই সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ

প্রকাশিত : ২১ জুন ২০২৬, রাত ৯:৩৬

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় নিয়মবহির্ভূতভাবে সামাজিক বনায়নের সরকারি গাছ কেটে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রদীপ কুমার রায়কে ব্যবহার করে কোনো ধরনের নিলাম বা টেন্ডার ছাড়াই এসব মূল্যবান গাছ কেটে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার কৈমারী-দোলাপাড়া এলাকায় একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তবে সড়কের পাশে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির বেশ কয়েকটি বড় ইউক্যালিপটাস গাছ থাকায় সেগুলো অপসারণের প্রয়োজন দেখা দেয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী গাছগুলো উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে কাটার কথা থাকলেও, বন বিভাগ কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই গাছগুলো কেটে পাচার করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির সদস্য ধীরেন্দ্র অধিকারী বলেন, আমরা এই বাগানের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও গাছ কাটার বিষয়ে আমাদের কিছুই জানানো হয়নি। প্রদীপ রায়ের নির্দেশেই গাছগুলো কাটা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সদস্য জানান, এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রদীপ কুমার রায় বলেন, উপজেলা বন কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ীই আমি কাজ করেছি, এতে আমার কোনো দোষ নেই।

এদিকে উপজেলা প্রকৌশলী মো. তারিকুজ্জামান জানান, গাছ অপসারণের জন্য অনেক আগেই বন বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেয়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. জোবায়ের আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। তবে জেলা বন কর্মকর্তা শাহিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি সম্পদ চুরির এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।