সারাদেশ

রূপগঞ্জে রনি হত্যার আসামিরা অধরা: প্রাণভয়ে ঘরছাড়া বাদী

প্রিন্ট
রূপগঞ্জে রনি হত্যার আসামিরা অধরা: প্রাণভয়ে ঘরছাড়া বাদী

প্রকাশিত : ২৭ জুন ২০২৬, রাত ৯:২০

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ফল ব্যবসায়ী রনি হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও এখনো অধরা রয়ে গেছে। উল্টো আসামিদের অব্যাহত হুমকি ও হামলার চেষ্টায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নিহতের স্বজনরা। শেষ পর্যন্ত জীবন রক্ষার্থে নিজ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন মামলার বাদী ও নিহতের বোন নাসরিন আক্তার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি তারাব দক্ষিণপাড়া এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী রাসেল ওরফে 'কুত্তা রাসেল', শ্রাবণ ও তাদের বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ ডজনখানেক মামলা রয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী ও এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর ছত্রছায়ায় এরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলে তারা রাতারাতি ভোল পাল্টে স্থানীয় কতিপয় বিএনপি নেতার আশ্রয়ে পুনরায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বর্তমানে তারাবো বাজার ও দক্ষিণপাড়া এলাকায় মাদক, জুয়া ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণসহ মধ্যযুগীয় বর্বরতায় চাঁদাবাজি চালাচ্ছে এই বাহিনী।

গত ২১ মে ভোরে ভুলতা গাউছিয়া ফলের আড়তে যাওয়ার পথে রনিকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে রাসেল ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় বোন নাসরিন বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এরপর গত ২৫ মে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করায় নিহতের স্বজনদের ওপর চড়াও হয় খুনিরা। বাদী নাসরিন আক্তার বলেন,

ভাই হারিয়ে বিচার চেয়ে আজ নিজের জীবন শঙ্কায় এলাকাছাড়া। কিছুদিন আগে আমাকে অটো দিয়ে ধাক্কা দিয়ে মেরে ফেলারও চেষ্টা করেছে খুনিরা। পুলিশকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।

চিহ্নিত অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের গ্রেপ্তার না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রূপগঞ্জ থানার এসআই সাদেক জানান,

আসামিরা অত্যন্ত ধূর্ত ও ভয়ংকর প্রকৃতির। তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খোলে না বা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে না। তবে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রাতেও ওসিসহ অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ তাদের এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছি। এর আগে এজাহারভুক্ত আসামি জয়সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

বাদীর হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে এবং বাদীর নিরাপত্তার বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে।

তবে এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এই চিহ্নিত অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসী বাহিনীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে এলাকায় যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী ও নাশকতামূলক ঘটনা ঘটতে পারে।