সরেজমিনে দেখা গেছে, বরপা, ভুলতা, নাগেরবাগ, রূপসী ও হাটাবোসহ অন্তত ৩০টি গ্রামের রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমর সমান পানি। রান্নার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অনেক পরিবার শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছে, কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন বাঁশের মাচায় বা আত্মীয়ের বাড়িতে। এছাড়া টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা।
স্থানীয় বাসিন্দা আকলিমা ও জিন্নাত আরা জানান, ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় চুলা জ্বালানো যাচ্ছে না। বরপার বাসিন্দা রওশন আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১০-১২ বছর ধরে সামান্য বৃষ্টি হলেই এখানে জলাবদ্ধতা হয়। আমাদের পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন শিল্পকারখানার নির্গত কেমিক্যাল ও আবাসন প্রকল্প ইস্টউড সিটি কর্তৃক বালু ফেলে খাল ভরাট করায় পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বন্ধ। কলকারখানার কুচকুচে কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্যমিশ্রিত পানিতে এলাকায় চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগ দ্রুত ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাদল কুমার সাহা জানান, চর্ম ও পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। তাদের চিকিৎসাপত্র ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।
আবাসন প্রকল্প ইস্টউড সিটির ল্যান্ড অফিসার জসিম উদ্দিন অবশ্য দাবি করেছেন, খালের জায়গা রেখেই তারা বালু ভরাট করেছেন।
এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-পরিচালক রাকিবুল আলম রাজিব জানান, জলাবদ্ধতার মূল কারণ বেদখল হওয়া খাল। বিশেষ করে তারাবো পৌরসভার খালগুলো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দখলে চলে যাওয়ায় পানি নামতে পারছে না।
কাঞ্চন পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ মারজানুর রহমান বলেন, অপরিকল্পিত সেচ খাল ও নিয়মিত সংস্কারের অভাবে সমস্যাটি স্থায়ী রূপ নিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে বেদখল হওয়া ৮টি খাল উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি খালগুলো পুনরুদ্ধার ও পানি নিষ্কাশনের পথ সচল করতে আমাদের কাজ চলমান রয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
মতামত