সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিধান রয়েছে। ওই বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। একই সঙ্গে ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। আর ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
বর্তমান সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছিল।
এরই মধ্যে চিকিৎসা শেষে নির্ধারিত সময়ের আগেই থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে দেশে ফিরেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। গত ১৯ জুলাই চিকিৎসার জন্য তিনি ব্যাংককে গিয়েছিলেন। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তাঁর আগামী রোববার ফেরার কথা থাকলেও দুই দিন আগেই দেশে ফিরে আসেন।
দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেছিলেন, তিনি দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছেই পদত্যাগপত্র জমা হবে এবং সে ক্ষেত্রে তিনিই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গত কয়েক দিন ধরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, তিনি পদত্যাগের বিষয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বিদায়ের প্রস্তুতির বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন। পাঁচ বছরের মেয়াদ অনুযায়ী তাঁর দায়িত্ব ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই তাঁর দায়িত্বে থাকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। শেষ পর্যন্ত তাঁর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন পরিবর্তনের সূচনা হলো।
মতামত