মো. আরিফুল ইসলাম পাবনার শহীদ মনসুর আলী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। বৈষম্যহীন রাষ্ট্র, ন্যায়বিচার এবং নাগরিক অধিকারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সামনের সারিতে ছিলেন তিনি।
আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই পাবনা টার্মিনাল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তবে ওই রাতেই তিনি মুক্তি পান। গ্রেপ্তারের অভিজ্ঞতা কিংবা দমন-পীড়নের আশঙ্কা তাকে আন্দোলন থেকে সরিয়ে রাখতে পারেনি। মুক্তির পর আবারও রাজপথে ফিরে সহযোদ্ধাদের সঙ্গে আন্দোলনে যুক্ত হন।
পরবর্তীতে ৪ আগস্ট পাবনা শহীদ চত্বরে আন্দোলন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হন আরিফুল। তার শরীরে তিনটি বুলেট এবং ১৮টি রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও একটি গুলি এখনো তার শরীরে রয়ে গেছে। প্রতিদিনের শারীরিক যন্ত্রণা তাকে আন্দোলনের সেই রক্তাক্ত দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়।
বর্তমানে তিনি ওয়ারিয়র্স জুলাই পাবনা জেলা আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করে আহত যোদ্ধাদের অধিকার আদায়, জুলাই আন্দোলনের চেতনা সংরক্ষণ এবং শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।
আরিফুল ইসলামের শরীরে রয়ে যাওয়া সেই একটি গুলি কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতের স্মারক নয়। এটি একটি আন্দোলনের মূল্য, আত্মত্যাগ এবং সাহসিকতার নীরব সাক্ষী। তার মতো অসংখ্য আহত যোদ্ধার ত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণা হয়ে থাকবে।
জুলাইয়ের ইতিহাসে মো. আরিফুল ইসলামের নাম একজন দৃঢ়চেতা তরুণের প্রতীক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, যিনি ব্যক্তিগত যন্ত্রণা পেছনে রেখে এখনো সংগ্রামের পথেই হাঁটছেন।
মতামত