সারাদেশ

দামের অস্থিরতায় দিশেহারা পাবনার পেঁয়াজ চাষিরা, ন্যায্য মূল্যের দাবি

প্রিন্ট
দামের অস্থিরতায় দিশেহারা পাবনার পেঁয়াজ চাষিরা, ন্যায্য মূল্যের দাবি

প্রকাশিত : ৩ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৮:৫৫

উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু বাজারে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম। তার ওপর আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় লোকসানের বোঝা আরও ভারী হচ্ছে। দামের অস্থিরতায় এমন পরিস্থিতিতে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার পেঁয়াজচাষিরা।

সম্প্রতি উপজেলার করমজা চতুরহাট বাজার এবং আশপাশের এলাকা ঘুরে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে দেশি জাতের পেঁয়াজের দাম সুপার কিংসসহ অন্যান্য জাতের তুলনায় প্রতি মণে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেশি। কৃষকদের মতে, দেশি পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এবং এতে পচন বা ওজন কমার পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বেশি।

অন্যদিকে সুপার কিংস জাতের পেঁয়াজের ফলন উল্লেখযোগ্য হলেও সংরক্ষণে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে দেশি জাতের পেঁয়াজ গড়ে প্রায় ৫০ মণ উৎপাদিত হলেও সুপার কিংসের ফলন ৮০ থেকে ৯০ মণ পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে সংরক্ষণের সময় বেশি পচন এবং বাজারে তুলনামূলক কম দামের কারণে অধিক ফলনও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত লাভ এনে দিতে পারছে না।

সাঁথিয়ার এক পেঁয়াজচাষী বলেন, আগে যে জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদনে যে খরচ হতো, এখন একই জমিতে ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, জমি প্রস্তুত এবং শ্রমিকের মজুরি সব কিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ভালো ফলন হলেও বাজারমূল্য কম থাকলে লাভ তো দূরের কথা, অনেক সময় উৎপাদন খরচও উঠে আসে না।

কৃষকদের ভাষ্য, মৌসুমে দাম কম থাকলে ভবিষ্যতে ভালো দামের আশায় তারা পেঁয়াজ মজুত করেন। কিন্তু আধুনিক সংরক্ষণাগার না থাকায় কয়েক মাসের মধ্যেই সংরক্ষিত পেঁয়াজের বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। তাদের দাবি, সংরক্ষণের অভাবে প্রায় ৩৫ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে, যা তাদের আর্থিক ক্ষতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে বাজারে প্রতিনিয়ত দামের ওঠানামায় কখন পণ্য বিক্রি করলে লাভ হবে, সেটিও নির্ধারণ করতে পারছেন না কৃষকরা। একদিন দাম বাড়লেও পরদিন আবার কমে যাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

এ অবস্থায় কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজের ন্যায্য ও স্থিতিশীল মূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

কৃষকদের মতে, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা সৃষ্টি করা গেলে লোকসান কমবে। এতে পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের আগ্রহও বাড়বে এবং উৎপাদন আরও টেকসই হবে।